অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার তিনটি চুরি হওয়া বিলাসবহুল গাড়ি

জুমু চৌধুরী

পুলিশের ভাষ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত কয়েকটি গাড়ি ছিনতাই ও চুরির ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

ইয়র্ক অঞ্চল এবং বৃহত্তর টরন্টো এলাকার (জিটিএ) বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত একাধিক সহিংস গাড়ি চুরির ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও একাধিক অভিযানের পর চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এবং প্রায় চার লাখ ডলার মূল্যের তিনটি চুরি হওয়া বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত কয়েকটি গাড়ি ছিনতাই ও চুরির ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা শুরু থেকেই সন্দেহ করছিলেন যে এসব ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, নজরদারি এবং গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেই সন্দেহ আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চক্রটির সদস্যরা শুধু গাড়ি চুরিতেই জড়িত ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফলে বিষয়টি সাধারণ গাড়ি চুরির ঘটনা থেকে অনেক বেশি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে গত ২৬ মে। ওইদিন মার্কহামের একটি আবাসিক এলাকায় একটি গাড়ি চুরির চেষ্টা চালানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত চুরির ঘটনাটি সফল হয়নি, তবে ঘটনাস্থল থেকে এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত দ্রুত এগিয়ে যায়।

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ব্র্যাম্পটনের একটি বাসভবনে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যার নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কিছু নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রেখে ৩ জুন ক্যালেডনের আরেকটি স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ওই অভিযানে চক্রের চতুর্থ সদস্যকে আটক করা হয়। এর মাধ্যমে তদন্তে শনাক্ত হওয়া সব সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে উদ্ধার হওয়া তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে এসব গাড়ি চুরি করে চক্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলো এখন তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভনের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী তেজভির সিং ধাট এবং ২১ বছর বয়সী সোবান মালিক। এছাড়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছে, যার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজের কাছে রাখা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন, পরিবর্তিত সিরিয়াল নম্বরযুক্ত অস্ত্রের দখল, নিষিদ্ধ মাদক রাখাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালেডনের ১৯ বছর বয়সী চানভির সিংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজের কাছে রাখার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে বিলাসবহুল গাড়ি চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ি চুরি করছে এবং পরে সেগুলো দেশের বাইরে পাচার কিংবা কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আরও অভিযোগ দায়ের কিংবা অতিরিক্ত গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক অ্যান্টি-থেফট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button