
কানাডার জাতীয় দিবস ‘কানাডা ডে’ উদযাপনকে ঘিরে এবার বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ব্র্যাম্পটন সিটি কর্তৃপক্ষ। গত ভিক্টোরিয়া ডে উপলক্ষে চিনগুয়াকৌসি পার্কে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দর্শনার্থীদের জন্য একাধিক নতুন বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন জানান, ১ জুলাই কানাডা ডে উদযাপনে অংশ নিতে আসা দর্শনার্থীদের পার্কে প্রবেশের সময় নির্ধারিত চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাগ তল্লাশির ব্যবস্থাও থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে আতশবাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, “ভিক্টোরিয়া ডে উপলক্ষে গত মে মাসে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমরা চাই এবারের কানাডা ডে যেন নিরাপদ, আনন্দময় এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
গত মে মাসে ভিক্টোরিয়া ডে-র দীর্ঘ ছুটির সপ্তাহান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি অনানুষ্ঠানিক সমাবেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় দুই হাজার তরুণ-তরুণী চিনগুয়াকৌসি পার্কে জড়ো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অনেকেই ব্যক্তিগত আতশবাজি নিয়ে এসে ভিড়ের মধ্যেই তা ফোটাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। পিল রিজিওনাল পুলিশের তথ্যমতে, আতশবাজির কারণে পার্কের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ পার্ক খালি করে দেয় এবং দিনের বাকি সময়ের জন্য সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর তদন্তের ভিত্তিতে অন্তত ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ব্রামালিয়া রোড ও কুইন স্ট্রিট ইস্টের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত প্রায় ৪০ একর আয়তনের চিনগুয়াকৌসি পার্ক ব্র্যাম্পটনের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। জাতীয় দিবস, বিভিন্ন উৎসব ও সরকারি আয়োজনের আতশবাজি প্রদর্শনের জন্য পার্কটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু বেপরোয়া দর্শনার্থীর কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ব্র্যাম্পটন সিটি ব্যক্তিগতভাবে আতশবাজি বিক্রি, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে শহরের যেকোনো সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত আতশবাজি ফোটানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে ৫০০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কানাডা ডে উপলক্ষে পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী এবং জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ যদি এমনভাবে আতশবাজি ব্যবহার করেন, যা অন্যের জীবন বা সম্পদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কে অস্ত্র, ধারালো বস্তু, অবৈধ মাদকদ্রব্য, ড্রোন, লেজার পয়েন্টার এবং জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো বস্তু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে পরিবার ও শিশুদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দর্শনার্থীদের বাইরে থেকে খাবার, অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়, কুলার, চেয়ার, কম্বল, তাঁবু এবং শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
১ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে কানাডা ডে উদযাপনের মূল অনুষ্ঠান। দিনজুড়ে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান, শিশু ও পরিবারের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং খাদ্য স্টল। রাত ১০টায় ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল আতশবাজি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দিনের আয়োজন। সিটি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এবারের উৎসব সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পার্কিং সুবিধা সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি প্রশাসন। তাই অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে হাঁটা, সাইকেল অথবা গণপরিবহন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কানাডার বিভিন্ন শহরই এখন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ব্র্যাম্পটনের এবারের উদ্যোগও সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা কৌশলেরই অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের আনন্দ বজায় রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



