অন্টারিও লাইনের উড়াল অংশের কাজ উদ্বোধন

আলী আহমেদ

অন্টারিও লাইন প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০২০ সালে। সে সময় লক্ষ্য ছিল ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করা।

অন্টারিও লাইনের নির্মাণকাজ ২০৩০-এর দশকের গোড়ায় শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ঠিক কবে নাগাদ নতুন এই সাবওয়ে লাইন যাত্রী পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত হবে সে বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ প্রাদেশিক ট্রানজিট সংস্থা মেট্রোলিংক্স। অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে এগলিন্টন ক্রসটাউন প্রকল্পের বারবার সময়সীমা পেছানোর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এমন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার অন্টারিও লাইনের উড়াল গাইডওয়ে এবং নতুন চারটি স্টেশনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোলিংক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল লিন্ডসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি বলেন, “এগলিন্টন এবং ফিঞ্চ প্রকল্প আমাদের শিখিয়েছে এ ধরনের জটিল ট্রানজিট অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কেবল ভৌত নির্মাণ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পুরো ব্যবস্থাটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালনার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ পরীক্ষা ও কমিশনিং প্রক্রিয়া অপরিহার্য।”

এগলিন্টন ক্রসটাউন এলআরটি প্রকল্পটি মূলত ২০২০ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ জটিলতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বয় ঘাটতির কারণে একাধিকবার উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যায়। এতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। অবশেষে চলতি মাসের শুরুতে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যদিও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি নিয়ে জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছিল।

একইভাবে ফিঞ্চ ওয়েস্ট এলআরটি প্রকল্পও নির্ধারিত সময়সূচি ও বাস্তব অগ্রগতির মধ্যে ফারাকের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই মেট্রোলিংক্স এবার প্রকাশ্য কোনো নির্দিষ্ট উদ্বোধনী তারিখ ঘোষণা করতে অনিচ্ছুক।

অন্টারিও লাইন প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০২০ সালে। সে সময় লক্ষ্য ছিল ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করা। তবে প্রকল্পের পরিধি, প্রযুক্তিগত নকশা, ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজের জটিলতার কারণে সময়সীমা সংশোধন করে ২০৩১ সাল নির্ধারণ করা হয়।

লিন্ডসে বুধবার বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ ২০৩০-এর দশকের গোড়ায় শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “নির্মাণ শেষ হওয়া আর পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া এক বিষয় নয়। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রতিটি ট্রেন, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শতভাগ কার্যকর। এজন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কঠোর পরীক্ষা চালানো হবে।”

টরন্টোর মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নতুন সাবওয়ে লাইন চালু করা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিদ্যমান ট্রানজিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয়, নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ, যাত্রী চলাচলের সক্ষমতা যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি। অতীতে দ্রুত উদ্বোধনের চাপ নিয়ে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এড়াতেই এবার ‘সেফটি ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থাকতে চায় মেট্রোলিংক্স।

বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি না দেওয়া রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ কমানোর একটি কৌশলও হতে পারে। কারণ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিলম্ব এখন প্রায় স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ব্যয় ও প্রযুক্তিগত জটিলতা একসঙ্গে বাড়তে থাকে।

অন্টারিও লাইন সম্পন্ন হলে এটি টরন্টোর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করবে এবং বিদ্যমান সাবওয়ে লাইনের ওপর চাপ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এটি চালু হলে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে। তবে সেই পরিবর্তন কবে নাগাদ বাস্তবে রূপ নেবে, তা জানতে এখনো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

মেট্রোলিংক্সের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত না করে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সংস্থাটি এবার সময়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button