
কানাডার টরন্টো শহরের ডাউনটাউন এলাকায় আসন্ন আল-কুদস দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও জনশৃঙ্খলা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ক্রেইগ ইয়াং জানান, কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবারের নির্ধারিত সমাবেশ ঘিরে একটি বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে, যদিও জননিরাপত্তার স্বার্থে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সমাবেশের আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল তিনটায় ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। “ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলন” নামের একটি সংগঠন এই কর্মসূচির আয়োজন করছে। আয়োজকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ফিলিস্তিন ইস্যুতে সংহতি জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি।
তবে এই সমাবেশ এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন কয়েকদিন আগে মার্কিন কনস্যুলেটকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আখ্যা দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে পাল্টা বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন হাজার মানুষের উপস্থিতি অনুমান করা হলেও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং উত্তেজনার কারণে উপস্থিতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের প্রধান ঘটনাপর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয় রাখা হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ডাউনটাউন এলাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন বা বন্ধ থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, টরন্টো সিটি কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড এক ভিডিও বার্তায় এই সমাবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আদালতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সিটি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তবে টরন্টো সিটির এক মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ বা বিক্ষোভের জন্য আলাদা কোনো অনুমতি প্রদানের বিধান নেই। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সমাবেশ চলাকালে মার্কিন কনস্যুলেটের আশপাশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে সীমিত করা হবে এবং ওই সময় কোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেটার টরন্টো অঞ্চলে একাধিক সিনাগগে হামলার ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহে তিনটি সিনাগগে হামলা এবং কনস্যুলেট লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ জোর দিয়ে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সমাবেশ চলাকালে কোনো ধরনের সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, টরন্টোতে আল-কুদস দিবসের এই সমাবেশ ঘিরে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা রয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।



