কানকুনের রিসোর্টে পর্যটকদের করুণ অভিজ্ঞতা

আনাস মোহাম্মদ

নরোভাইরাস সাধারণত খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকেন, যেমন রিসোর্ট, ক্রুজ শিপ বা স্কুল।

মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কানকুনের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরে গুরুতর অসুস্থতার অভিযোগ তুলেছেন কয়েক ডজন কানাডীয় পর্যটক। তাদের অনেকে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথায় ভুগেছেন; কারও কারও অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে দেশে ফেরার পর হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আক্রান্তদের দাবি, রিসোর্টে অবস্থানকালে খাদ্যবাহিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।

হ্যামিল্টনের বাসিন্দা কেলি বেনেট পরিবারসহ কানকুনের ‘রয়্যালটন স্প্ল্যাশ রিভিয়েরা’ রিসোর্টে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রথম কয়েকদিন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। পরিবার মিলে রোদ, সুইমিং পুল ও বিভিন্ন বিনোদন উপভোগ করছিলেন। কিন্তু অবস্থানের তৃতীয় দিন থেকে তাদের শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বেনেট বলেন, শুধু তার পরিবার নয় রিসোর্টজুড়ে দ্রুত অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ে। বহু পরিবার নিজেদের কক্ষে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। শিশুদের কেউ শয্যাশায়ী হয়ে যায়, কেউ বা পুলের পাশে তোয়ালে জড়িয়ে দুর্বল শরীরে সময় কাটায়। প্রাপ্তবয়স্কদের অবস্থাও ছিল শোচনীয় অনেকে বাথরুম থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

কানাডায় ফেরার পর চিকিৎসা পরীক্ষায় বেনেট পরিবারের সদস্যদের নরোভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ মেলে। নরোভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক; এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং দ্রুত বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ সৃষ্টি করে। বেনেটের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের চিকিৎসক সংক্রমণটিকে খাদ্যবাহিত পরজীবী সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সন্দেহ করেছেন।

তিনি আরও জানান, তার ছেলে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি এবং পরীক্ষায় এখনো সংক্রমণের উপস্থিতি ধরা পড়ছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের মল নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার কারণে ভ্রমণ বাতিল করতে বাধ্য হওয়া তাদের দলের এক সদস্যকে সংক্রমণ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার শর্তে একটি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ওয়ারেন ক্যারিয়ের ও তার বান্ধবী নিকোল। ভ্যানকুভার আইল্যান্ডে ফেরার পর ওয়ারেনকে কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। তার কথায়, “এটা ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। বমি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া সব মিলিয়ে শরীর একেবারে ভেঙে পড়ে।” তার মতে, উপসর্গগুলো স্পষ্টতই খাদ্যবাহিত অসুস্থতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নরোভাইরাস সাধারণত খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকেন, যেমন রিসোর্ট, ক্রুজ শিপ বা স্কুল। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দূষিত খাবার পরিবেশন, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন বা সংক্রমিত কর্মীর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঘটনাটি পর্যটন নিরাপত্তা ও রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আক্রান্তরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পর ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষত আন্তর্জাতিক ভ্রমণে খাবার ও পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

কানকুনের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে পর্যটকদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Related Articles

Back to top button