জমজমাট টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

মাহবুবুল আলম

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) যেন এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মঞ্চ।

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) যেন এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সেপ্টেম্বরের শীতল হাওয়ায় টরন্টোর রাস্তায় রূপালি পর্দার জাদু ছড়িয়ে দিয়েছে এ উৎসব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত চলচ্চিত্রপ্রেমী, পরিচালক, প্রযোজক ও তারকাদের পদচারণায় এখন মুখরিত শহরটি। শুধু কানাডা নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের কাছে টিআইএফএফ আজ একটি বহুল প্রতীক্ষিত উৎসব।

আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রায় ২৮৫টি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি, ডকুমেন্টারি এবং বিশেষ প্রদর্শনী। অংশ নিচ্ছে ৭২টি দেশ, যা উৎসবের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ। এই বৈচিত্র্যই টিআইএফএফকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে যেখানে একসঙ্গে দেখা যায় হলিউডের ঝকঝকে প্রযোজনা ও এশিয়ার কিংবা আফ্রিকার স্বাধীন সিনেমার মানবিক গল্প।

উৎসবের প্রথম তিন দিনেই প্রায় ৯৫ হাজার দর্শক বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। পুরো উৎসব জুড়ে এই সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ৪ লক্ষের ওপরে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ দর্শক কানাডার বাইরের, যা টরন্টোকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নগরী হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

প্রিমিয়ার প্রদর্শনীর দিক থেকেও এ বছর ব্যস্ততম। আয়োজন রয়েছে ৪৫টি বিশ্ব প্রিমিয়ার এবং ৭৫টি উত্তর আমেরিকান প্রিমিয়ার। এ তালিকায় যেমন জায়গা করে নিয়েছে বড় বাজেটের বহুল আলোচিত হলিউড সিনেমা, তেমনি রয়েছে স্বাধীন নির্মাতাদের পরীক্ষাধর্মী কাজও। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কানাডিয়ান নির্মাতাদের নতুন কিছু কাজ, যা আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডিয়ান সিনেমার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে।

সাংস্কৃতিক আসরের বাইরেও টিআইএফএফ টরন্টোর অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। শহরের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও বিনোদন খাতে এ উৎসবের কারণে আয় হবে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে টরন্টোর প্রায় সব হোটেলই পূর্ণ, আর রেস্টুরেন্টগুলোতে দর্শক ও তারকাদের ভিড় জমে উঠেছে। অনেকের মতে, টিআইএফএফ শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি শহরের আর্থসামাজিক প্রাণচাঞ্চল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি।

ডিজিটাল দুনিয়ায়ও টিআইএফএফ সমানভাবে আলোচিত। উৎসবকে ঘিরে ব্যবহৃত হয়েছে কয়েক মিলিয়ন হ্যাশট্যাগ। শুধু উদ্বোধনী রাতের লাইভ কাভারেজই অনলাইনে দেখেছেন প্রায় ১২ লাখ দর্শক। এর ফলে টরন্টোর সাংস্কৃতিক বৈশ্বিক পরিচিতি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এবারের টিআইএফএফ প্রমাণ করেছে, এটি কেবল একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মহামিলনমেলা। শিল্প, বিনোদন, অর্থনীতি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার অনন্য সমন্বয়ে টরন্টো শহরকে এটি তুলে ধরেছে নতুন উচ্চতায়।

Related Articles

Back to top button