ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব, মতামত আহ্বান করল ফেডারেল সরকার

কামরুল ইসলাম

কানাডার ফেডারেল সরকার দেশের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে।

কানাডার ফেডারেল সরকার দেশের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডা ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন যে সর্বোচ্চ ১ লাখ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত জমা নিশ্চয়তা দেয়, তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার চিন্তাভাবনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক, ব্যাংক, ক্রেডিট ইউনিয়ন ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, কিছু দেশে ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা এবং সুদের হারের অস্থিরতা গ্রাহকদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। কানাডার শেষ ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স পর্যালোচনা হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে, ২০১৮ সালে বৈদেশিক মুদ্রায় জমার ওপর কাভারেজ বাড়ানো হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো ছোট ও মাঝারি সঞ্চয়কারীদের সুরক্ষা জোরদার করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

বর্তমানে কানাডা ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন দেশের সব প্রধান ব্যাংক এবং অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কাভার করে। সেভিংস অ্যাকাউন্ট, চেকিং অ্যাকাউন্ট এবং গ্যারান্টিড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট এই নিশ্চয়তার আওতায় আসে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ (স্টক, বন্ড) বা ক্রিপ্টোকারেন্সি এর আওতায় নয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তনেও এই কাঠামোগত ধারা বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সীমা বাড়ানো হলে সঞ্চয়কারীদের আস্থা আরও শক্ত হবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং অবসরকালীন সঞ্চয়কারী কানাডিয়ানদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি। ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়লে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং বড় ধরনের ব্যাংক সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

তবে সবকিছুরই যেমন সুবিধা আছে, তেমনি আছে চ্যালেঞ্জ। ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের সীমা বাড়লে সরকারের সম্ভাব্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি ঝুঁকি সামলাতে কানাডা ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন-কে বেশি রিজার্ভ রাখতে হবে, যা ব্যাংকগুলোকে বেশি প্রিমিয়াম দিতে বাধ্য করতে পারে। ফলস্বরূপ, ব্যাংকগুলো তাদের সেবা খাতে ফি বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের সুরক্ষা বাড়ার পাশাপাশি আর্থিক খাতের প্রতি আস্থা বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কানাডার এই উদ্যোগ অন্য দেশগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সরকার এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট খাতের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাবে। যদি প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে গত এক দশকে কানাডার ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স খাতে সবচেয়ে বড় সংস্কার।

Related Articles

Back to top button