ধর্মঘটী শিক্ষকদের কাজে ফেরানোর বিলের বিরুদ্ধে লড়বে আলবার্টা এনডিপি

দিদার হোসেন

ধর্মঘটী শিক্ষকদের জোর করে কাজে ফেরানোর জন্য সরকারের আসন্ন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে আলবার্টার বিরোধীদল এনডিপি

আলবার্টায় ধর্মঘটরত শিক্ষকদের জোরপূর্বক কাজে ফেরানোর জন্য প্রাদেশিক সরকারের আসন্ন আইনগত পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে বিরোধীদল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। তবে এনডিপি স্বীকার করেছে যে, তাদের রাজনৈতিক শক্তি সীমিত হওয়ায় এই লড়াই সহজ হবে না।

প্রাদেশিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টি (ইউসিপি) সরকারের ঘোষণা যদি চলমান ধর্মঘট আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে আইন প্রণয়ন করে শিক্ষকদের কাজে ফেরানো হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা নাদি নেনশি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সরকারকে পিছু হটাতে হলে জনগণকে বোঝাতে হবে যে এই অন্যায্য পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ভূমিকা সীমিত হলেও, আপনারা যদি পাশে থাকেন, আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “ইউসিপি এমএলএদের জনগণের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া উচিত আপনারা যা করছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।”

নেনশির বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এনডিপি এখন জনমত গড়ে তুলেই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার হিসেবে ইউসিপি চাইলে সংসদে দ্রুত বিলটি পাস করাতে পারবে।

এই ধর্মঘটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশের দাবি। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫১ হাজার শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে প্রদেশজুড়ে সাড়ে সাত লাখ শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত, এবং আড়াই হাজারেরও বেশি সহায়ক কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শিক্ষক ধর্মঘটের কারণে শুধু মূলধারার স্কুলই নয়, আলাদা ও ফ্রাঙ্কোফোন স্কুলগুলোর শিক্ষাক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রিমিয়ার স্মিথ এই পরিস্থিতিকে “শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য অসহনীয় দুর্ভোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, “আগামী সপ্তাহেও যদি ধর্মঘট চলতে থাকে, তবে আমরা শিক্ষকদের আইনগতভাবে কাজে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করব।”

নাদি নেনশি এই পদক্ষেপকে “ভুল ও অগণতান্ত্রিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই চাই শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাক, শিক্ষকরা কাজ শুরু করুন। কিন্তু যেভাবে সরকার বিষয়টি সমাধান করতে চাইছে, তা সঠিক উপায় নয়।”

তিনি আরও জানান, এনডিপি আইনসভায় বিলটি বিলম্বিত করার জন্য “প্রক্রিয়াগত কৌশল” ব্যবহার করবে। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, ইউসিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি আটকে দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

আলবার্টা আইনসভার ফল অধিবেশন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবারের থ্রন স্পিচ দিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অধিবেশনের শুরুতেই শিক্ষকদের ধর্মঘট এবং সরকার–বিরোধী সংঘাত মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।

বিরোধী এনডিপি যেখানে জনগণের সহানুভূতি ও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করছে, সেখানে সরকার নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে “জনস্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ” হিসেবে।

আলবার্টার এই শিক্ষা সংকট প্রদেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শ্রম–বিরোধের একটি রূপ নিয়েছে। সরকারের কড়াকড়ি আইন প্রণয়নের হুমকি এবং এনডিপির নৈতিক প্রতিরোধ এই দুই বিপরীত শক্তির সংঘাতে এখন নজর সারা দেশের।

যদি আইনটি কার্যকর হয়, তাহলে শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম নতুন মোড় নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে কানাডার অন্যান্য প্রদেশের শ্রম–নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলবে।

Related Articles

Back to top button