প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বড় বিনিয়োগ: ১৪ উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

মাহবুবুল আলম

কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি এ প্রসঙ্গে বলেন, “বর্তমান সময়ে উদ্ভাবনকে গবেষণাগারের গণ্ডি থেকে বের করে বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি

কানাডার উৎপাদন খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা নয়, বরং গবেষণাগারভিত্তিক উদ্ভাবনকে বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পকে আরও বাজারমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।

সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এ খাতে ২৫ মিলিয়ন ডলার সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পখাত থেকেও অতিরিক্ত ৩৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ মিলিয়ন ডলার, যা প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অর্থায়নের আওতায় মোট ১৪টি প্রকল্প নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পই উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির প্রয়োগ ও বিস্তারে কাজ করবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তোলা, প্রসাধনী শিল্পে স্বয়ংক্রিয় প্যাকেজিং প্রযুক্তির উন্নয়ন, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুল করা।

এছাড়াও, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রকল্পে মিথেন গ্যাসকে সংরক্ষণযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্রাকৃতির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়নও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি এ প্রসঙ্গে বলেন, “বর্তমান সময়ে উদ্ভাবনকে গবেষণাগারের গণ্ডি থেকে বের করে বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। এই বিনিয়োগ সেই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে এবং কানাডার বাণিজ্যিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।”

এই তহবিল একটি অলাভজনক শিল্প সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যারা উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগে কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক শিল্পমেলার একটি বড় মঞ্চে এই অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

এই উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক শিল্পোন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্প কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। প্রযুক্তি, গবেষণা এবং বিনিয়োগের সমন্বয়ে কানাডার উৎপাদন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button