প্রশ্নবানে বিদ্ধ অন্টারিওর কনজার্ভেটিভ সরকার

জামির হোসেন

শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনি

কুইন’স পার্কে সোমবার এক উত্তপ্ত অধিবেশনে অন্টারিওর প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ২৫০ কোটি ডলারের স্কিলস ডেভেলপমেন্ট তহবিল (Skills Development Fund) ঘিরে উঠেছে প্রশ্নের ঝড় এই তহবিল বণ্টনের স্বচ্ছতা, লবিস্টদের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে প্রদেশের রাজনীতি।

অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনি (David Piccini)। সম্প্রতি ফ্রান্সে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং লবিস্টদের সঙ্গে হকি খেলা দেখা নিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই লবিস্টদেরই কেউ কেউ সরকারের ওই তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।

নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট তহবিলের অন্তত ১০ কোটি ডলার গেছে এমন সব সংস্থার কাছে, যাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ লবিস্টরা সরাসরি যুক্ত। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলছে সরকার কি জনস্বার্থের পরিবর্তে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে তহবিল বণ্টন করছে?

মন্ত্রী পিচ্চিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি আমার কাজের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছি। সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কিছু আবেদনকে অন্যগুলোর আগে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল।” তবে বিরোধী দল এই যুক্তি মানতে রাজি নয়।

বিরোধী দলের কটাক্ষ – ‘শ্যাম্পেইনে চুমুক, রিঙ্কসাইডে লবিস্ট!’ বিরোধী দলীয় নেতা মারিট স্টাইলিস (Marit Stiles) আইনসভায় তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে বলেন,

“মন্ত্রী সাহেব, প্যারিস কেমন ছিল? আমরা সবাই দেখেছি, আপনি লাইভ ভিডিওতে স্বীকার করেছেন যে কিছু কম স্কোরের আবেদনকারীদের অনুকূলে তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপর আমরা জানতে পারি, আপনি হয়তো প্যারিসে বসে শ্যাম্পেইনে চুমুক দিচ্ছিলেন, নয়তো লবিস্টদের পাশে বসে হকি ম্যাচ উপভোগ করছিলেন। এসব লবিস্টের আবার আপনার মন্ত্রণালয়ে ব্যবসা আছে। বলুন তো, মন্ত্রী, চ্যাম্পস এলিসির সামনে বসে শ্যাম্পেইনের স্বাদ কেমন? এটা কি সত্যিই অন্টারিওর কোনো শ্রমিককে চাকরি পেতে সাহায্য করছে?”

স্টাইলিসের মন্তব্যে আইনসভা মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পিচ্চিনি প্রতিক্রিয়ায় সংযত থাকলেও বিরোধীদের অভিযোগ যে এখন রাজনৈতিকভাবে বড় চাপ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে আরও কঠিন প্রশ্ন আসে মন্ত্রীর দিকে। এক সাংবাদিক সরাসরি জানতে চান, “যেসব সংস্থা তহবিল পেয়েছে, তারা কি প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টিকে অনুদান দিয়েছে?” “যে কেউ চাইলে রাজনৈতিক অনুদান দিতে পারেন, এটি আইনত বৈধ। তবে আমার মনোযোগ এখন অন্টারিওর কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডগ ফোর্ড সরকারের বিরুদ্ধে এটি এক নতুন দুর্নীতির অভিযোগের ধারা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জমি লেনদেন ও ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে আগেই সমালোচনায় ছিল সরকার। এখন শ্রমমন্ত্রণালয়ের এই তহবিল বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিতে আরও দাগ ফেলতে পারে।

এদিকে বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে। তারা চাইছে, তহবিল বণ্টনের সব নথি ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা হোক, যাতে জনগণ জানতে পারে কোন মানদণ্ডে আবেদনকারীদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২৫০ কোটি ডলারের এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল প্রদেশজুড়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন। কিন্তু এখন সেই লক্ষ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার দাবি করছে, এটি উন্নয়ন ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ; আর বিরোধীরা বলছে, এটি রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতির এক আরেকটি অধ্যায়।

পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে একথা নিশ্চিত কুইন’স পার্কের এই বিতর্ক অন্টারিও রাজনীতিতে আরও এক নতুন ঝড়ের সূচনা করেছে।

Related Articles

Back to top button