বাড়তি আয়ের জোরে ব্যয় বাড়াচ্ছে সরকার, অর্থনীতিতে স্বস্তি ও শঙ্কা একসাথে

কামরুল ইসলাম

অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন যে আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেছেন, তাতে দেখা যায় গত বাজেট ঘোষণার পর থেকেই সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক আর্থিক হালনাগাদে দেশের অর্থনীতির একটি দ্বিমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে রাজস্ব আয়ের উন্নতি, অন্যদিকে সেই অতিরিক্ত অর্থ দ্রুত বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা এই দুই প্রবণতাই সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশে।

অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন যে আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেছেন, তাতে দেখা যায় গত বাজেট ঘোষণার পর থেকেই সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বড় অঙ্কের নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ব্যয়নীতির মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিতে চাহিদা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য মন্দার ঝুঁকি কমানো।

তবে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু খাতে ব্যয় হ্রাস এবং প্রত্যাশার তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায়ের ফলে সামগ্রিক আর্থিক চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূর্বানুমানের তুলনায় কম হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবুও সামনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং ভোক্তা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এর ঢেউ দেশীয় অর্থনীতিতেও আঘাত হানতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং উৎপাদন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সাময়িক স্বস্তি প্রদান এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য আর্থিক সহায়তা এসব উদ্যোগ বর্তমান পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের মতে, অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশই নতুন ব্যয়ের মাধ্যমে দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য সুস্পষ্ট ও টেকসই কোনো কৌশল এখনো দৃশ্যমান নয়। তারা সতর্ক করে বলছেন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভবিষ্যতে সরকারকে আরও কঠোর আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

বর্তমান আর্থিক চিত্রে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তির ইঙ্গিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জের মেঘ কাটেনি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

Related Articles

Back to top button