বিতর্কের জেরে অন্টারিওর দুই দ্বীপের নাম বদলের উদ্যোগ

দিদার হোসেন

টাউনশিপের মেয়র শেরি সেনিস বলেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের কারণে তার নাম বহনকারী স্থানগুলো রাখা আর সমীচীন নয়

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সেলউইন টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরের নাম বহনকারী দুটি ছোট দ্বীপের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

টাউনশিপের মেয়র শেরি সেনিস বলেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের কারণে তার নাম বহনকারী স্থানগুলো রাখা আর সমীচীন নয়। এই অবস্থায় “প্রিন্স অ্যান্ড্রু আইল্যান্ড” এবং নিকটবর্তী “গর্ডনস্টাউন আইল্যান্ড”-এর নাম দ্রুত বাতিল করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত টাউন কাউন্সিলের বৈঠকে এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্টারিও ভৌগোলিক নাম বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম বাতিলের আবেদন জানানো হবে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু আইল্যান্ড একটি ছোট, জনবসতিহীন পাথুরে দ্বীপ, যা ওটোনাবি নদীর মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৭৮ সালে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। এর আগে ১৯৭৭ সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রু স্থানীয় লেকফিল্ড কলেজে এক সেমিস্টার পড়াশোনা করেছিলেন। কাছের গর্ডনস্টাউন আইল্যান্ডের নামকরণ করা হয়েছিল স্কটল্যান্ডের গর্ডনস্টাউন স্কুলের নাম অনুসারে, যেখানে প্রিন্স অ্যান্ড্রু, রাজা চার্লস তৃতীয় এবং তাদের বাবা প্রিন্স ফিলিপ শিক্ষালাভ করেছিলেন।

মেয়র সেনিস জানান, নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং কমিউনিটির পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য কার্ভ লেক ফার্স্ট নেশনসহ স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ বাসিন্দাদের মতামত সংগ্রহ করে সম্ভাব্য নামের একটি তালিকা তৈরি করা হবে।

এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে সমালোচনা চলছে। ভির্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, কিশোরী অবস্থায় পাচারের শিকার হয়ে তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দ্বারা নির্যাতিত হন। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত বছরের শেষদিকে তার রাজকীয় মর্যাদা হারানোর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে তার নাম অপসারণের দাবি জোরদার হয়। সেলউইন টাউনশিপের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেরই অংশ। মেয়র সেনিস বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরও কাড়ে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সানডে টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাই আগে জানতেন না যে তাদের টাউনশিপে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামে কোনো দ্বীপ রয়েছে। দ্বীপগুলো ছোট এবং জনবসতিহীন হওয়ায় এগুলোর ব্যবহারও প্রায় নেই বললেই চলে।

এদিকে অন্টারিওর অন্যান্য এলাকাতেও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম বহনকারী স্থানগুলোর নাম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পৌরসভা বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং কোথাও কোথাও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও জমা পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী পরিবর্তন নয়; বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের নাম জনপরিসর থেকে সরিয়ে দিয়ে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বিশ্বজুড়েই ক্রমশ বাড়ছে। সেলউইন টাউনশিপের এই সিদ্ধান্ত সেই বৈশ্বিক প্রবণতারই একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button