বিল সি-৫ পাস, কানাডায় ফাস্ট-ট্র্যাক অবকাঠামো অনুমোদনের পথ খুলল

দিদার হোসেন

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দিল সংখ্যালঘু লিবারেল সরকারের বহুল আলোচিত বিল সি-৫। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাউস অব কমন্সে বিলটি কনজারভেটিভ এমপিদের প্রত্যাশিত সহযোগিতার মধ্য দিয়ে পাস হয়। রাজনৈতিক মহলে এটি একটি বিরল ঐকমত্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সেনেটে অনুমোদনের অপেক্ষা সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কানাডা দিবসের আগেই এটি আইনে পরিণত হতে পারে।

“কানাডিয়ান ইকোনমিক অ্যাক্ট” নামে পরিচিত এই বিল ফেডারেল সরকারকে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও কৌশলগত প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনের বিশেষ ক্ষমতা দেবে। এর আওতায় থাকবে ১)গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন প্রকল্প ২) নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো ৩) বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদন কেন্দ্র এবং ৪) বড় আকারের পরিবহন করিডর ও ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার

সরকারের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং দেশীয় অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটাই সেই আইন যা আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। আমরা এখন একটি সংকটের মধ্যে আছি। যদি কেউ মনে করে কানাডার অর্থনীতি চাপের মধ্যে নেই, তাহলে সল্ট স্টে. মেরি, হ্যামিল্টন বা উইন্ডসর ঘুরে আসুন সেখানে শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান যে চাপে রয়েছে তা বোঝা যাবে।”

গত ৬ জুন হাউসে এই বিল উত্থাপন হয়। কমিটির ৮ ঘণ্টার বিশ্লেষণ ও সংশোধন করে হাউসে ফেরত আসার পর দুই দফা ভোট হয়। বিরোধী দলনেতা অ্যান্ড্রু শিয়ার ও কনজারভেটিভ উপনেতা মেলিসা ল্যান্টসম্যানের সমর্থনে বিল পাস হয়।

ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী বিরোধী নেতাদের সঙ্গে করমর্দন করেন যা বিরল রাজনৈতিক সহযোগিতার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

বিলে দুটি পৃথক অংশ থাকায় হাউস স্পিকার দুটি ভোটের আয়োজন করেন ১) আন্তঃপ্রাদেশিক বাণিজ্য বাধা কমানো: সমর্থন দেয় এনডিপি ও ব্লক কুইবেকোয়া। ২) বড় প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের ক্ষমতা: এনডিপি ও ব্লক কুইবেকোয়া এর বিপক্ষে ভোট দেয়।

এনডিপি অভিযোগ করেছে, দ্বিতীয় অংশটি পরিবেশগত মূল্যায়ন ও জনপরামর্শ প্রক্রিয়া দুর্বল করতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক প্রিমিয়াররা ইতিমধ্যেই তাদের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে জাতীয় তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। ফেডারেল সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, একটি সমন্বিত তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

সেনেটে বিতর্ক ও ভোটের পর অনুমোদন মিললেই আইন কার্যকর হবে। এ নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানের প্রায় ১৮ মাসের বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া কমে ছয় মাসে নামতে পারে।

হাউস অব কমন্সের অধিবেশন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত। এই সময়ের মধ্যে সরকার বাস্তবায়নের কাঠামো প্রস্তুত করবে, যাতে সেনেটের অনুমোদন পেলেই আইন কার্যকর করা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার অর্থনৈতিক নীতি ও শিল্প বিনিয়োগে এটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে, তবে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Articles

Back to top button