বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে টরন্টো ডাউনটাউনে বাড়তে পারে যানজট

কামরুল ইসলাম

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার টরন্টো শহরে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিটি প্রশাসন। শহরের মেয়র অলিভিয়া চাওয়ের নির্বাহী কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ডাউনটাউন টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সিটি ম্যানেজার পল জনসনের প্রস্তুত করা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ শহরের স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চালক, পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টরন্টোতে নির্ধারিত ছয়টি ম্যাচের দিন পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চাপের হতে পারে।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। এসব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামটির নাম অস্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে ‘টরন্টো স্টেডিয়াম’ রাখা হবে।

শুধু স্টেডিয়াম এলাকাই নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন অংশে দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ফোর্ট ইয়র্ক ন্যাশনাল হিস্টোরিক সাইট এবং দ্য বেন্টওয়ে এলাকায় বড় আকারের একটি ফ্যান ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী একত্রিত হয়ে ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকাগুলোতেও যানবাহন ও মানুষের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের সামগ্রিক চলাচল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে মার্চ মাসের শেষের মধ্যে এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রেখেই বিশ্বকাপের আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

প্রতিবেদনে যানজট কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাফিক সিগন্যালের সময়সূচিতে অস্থায়ী পরিবর্তন আনা, ম্যাচের দিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রাস্তার পাশে পার্কিং সীমিত করা এবং স্টেডিয়ামের আশপাশে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা। এছাড়া বড় সড়কগুলোতে চলমান নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রয়োজন হলে কিছু মহাসড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের পশ্চিমমুখী লেনে ওঠার জন্য জেমসন অ্যাভিনিউ র‌্যাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।

শহরের বাসিন্দা ও চালকদের আগাম সতর্ক করতে সিটি প্রশাসন একটি বিস্তৃত যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী সাইনবোর্ড বসানো হবে, যাতে রাস্তা বন্ধ বা বিকল্প পথের তথ্য সহজেই জানা যায়।

তবে ঠিক কোন কোন সড়কে ট্রাফিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, টরন্টোতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ জুন। এটি কানাডার মাটিতে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। ফলে ওই ম্যাচকে ঘিরে দর্শক, পর্যটক এবং গণমাধ্যমের ব্যাপক উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বড় আয়োজন শহরের অর্থনীতি ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিটি প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Related Articles

Back to top button