
টরন্টোতে এক অচেনা নারী নিজেকে নিবন্ধিত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট (আরএমটি) পরিচয় দিয়ে মাসের পর মাস প্রতারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যার পরিচয় ব্যবহার করে এই প্রতারণা করা হয়েছে, সেই প্রকৃত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট গভীর ভয় ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত নারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে টরন্টো পুলিশ।
টরন্টো পুলিশ ১০ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ডাউনটাউন এলাকার দুটি স্পায় সংঘটিত দুটি জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে প্রায় পাঁচ মাস ধরে ৩৬ বছর বয়সী সিকাতেমা লিশোমোয়া নিজেকে একজন নিবন্ধিত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এবং সেই সেবার জন্য অর্থও গ্রহণ করেছেন। তবে বাস্তবে তিনি একজন বর্তমান আরএমটির ছদ্মবেশে এই কাজ করেছেন।
পুলিশ জানায়, লিশোমোয়া কোনো বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই ওই স্পাগুলোতে কাজ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ঘটনার এতদিন পরও অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আলেক্সান্দ্রা জানান, তার ধারণা ছিল পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত নারীকে খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো অধরা থাকায় তিনি ভীষণ হতাশ ও উদ্বিগ্ন। আলেক্সান্দ্রা বলেন, “আমি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি।”
তিনি জানান, প্রথমবার তিনি জানতে পারেন যে তার আরএমটি পরিচয়পত্র অন্য কেউ ব্যবহার করছে চলতি বছরের জুলাই মাসে। আয়ারল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের পথে থাকাকালীন তিনি এই ভয়াবহ তথ্য পান। হঠাৎ করেই বুঝতে পারেন, তার পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে কেউ একজন অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আলেক্সান্দ্রা আরও বলেন, অভিযুক্ত লিশোমোয়ার সঙ্গে তার কখনোই সরাসরি দেখা হয়নি, এমনকি তিনি তাকে চোখেও দেখেননি। কীভাবে ওই নারী তার পেশাগত তথ্য ও পরিচয়পত্রের বিবরণ সংগ্রহ করলেন, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন। তবে তার ধারণা, ডিজিটাল যুগে এসব তথ্য পাওয়া খুব কঠিন কোনো বিষয় নয়।
এই ঘটনায় নিজের পেশাগত সুনাম, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং রোগীদের স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলেক্সান্দ্রা। তিনি আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রতারণা আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টরন্টো পুলিশ যে কেউ এই নারী সম্পর্কে তথ্য জানলে সামনে আসার আহ্বান জানিয়েছে।



