যাত্রীর সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ালেন ওয়েস্টজেট কর্মকর্তা

আলী আহমেদ

জেসন হুয়াং সিবিসি-কে জানান, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎই একজন ব্যবস্থাপক তার ফোনটি হাত থেকে কেড়ে নেন।

এডমন্টন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে একটি সাধারণ চেক-ইন প্রক্রিয়া মুহূর্তেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয় আর তাতেই ভোগান্তিতে পড়েন টরন্টোফেরত যাত্রী জেসন হুয়াং ও তার বয়স্ক তিন আত্মীয়। গত আগস্টে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাতে ওয়েস্টজেট এজেন্টদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত যাত্রীদের রেকর্ডিং করার অধিকার এবং এয়ারলাইনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে।

জেসন হুয়াং সিবিসি-কে জানান, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎই একজন ব্যবস্থাপক তার ফোনটি হাত থেকে কেড়ে নেন। তিনি বলেন, “এডমন্টনের মতো জায়গায় এমন আচরণ কেউ আশা করে না। আমি সত্যিই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।”

হুয়াং পরিবার বানফ, জ্যাস্পার ও ক্যালগেরি ভ্রমণ শেষে টরন্টো ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অনলাইন চেক-ইন আগে থেকেই করা ছিল, এমনকি প্রিন্টেড বোর্ডিং পাসও সঙ্গে ছিল। কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে তারা দেখেন, ওয়েস্টজেটের একজন এজেন্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নতুন বোর্ডিং পাস ইস্যু করছেন।

কেন তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না এ প্রশ্ন বারবার করা সত্ত্বেও কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ হুয়াংয়ের। পরে একজন এজেন্ট জানান, তারা যেই বিমানে ভ্রমণ করার কথা ছিল সেটি আকারে ছোট, তাই কয়েক ঘণ্টা পরে বিকল্প ফ্লাইটে তাদের পাঠানো হবে। হুয়াং জানান, বিষয়টির রেকর্ড রাখতে ও পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে তিনি ফোনে অডিও রেকর্ডিং শুরু করেন। ঠিক তখনই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

অডিও চালু দেখে ওয়েস্টজেটের এক এজেন্ট তাকে সতর্ক করেন রেকর্ডিং বন্ধ না করলে পুলিশ ডেকে আনা হবে। কিন্তু হুয়াং রেকর্ডিং বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালে এজেন্ট সরাসরি বলে দেন, “আপনি আজ আর ভ্রমণ করতে পারবেন না।” পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে এজেন্ট হুয়াংয়ের ফোনটি কেড়ে নেন এবং পরিবারের বোর্ডিং পাস ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার সময় জেসনের বাবা জিঙ্গান হুয়াং ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন এজেন্ট এসে বলেন রেকর্ড করার কোনো অধিকার তাদের নেই। এরপর ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফোন টানাটানির সময় জিংগানের যার বয়স ৭৩ চোখে আঘাত লাগে এবং চোখ ফুলে লাল হয়ে যায়। পরিবারের দাবি তারা শান্তভাবেই তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন, কিন্তু এজেন্টরা আগ্রাসী আচরণ দেখান এবং পরিস্থিতি অযথা জটিল করেন।

কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশনের এক আইনজীবী ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বলেন, “এই আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক। যেহেতু বিমানবন্দরের পাবলিক এলাকায় কেউ ঘটনার রেকর্ড করতে চাইলে তা কানাডায় আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ।” তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে এভাবে শারীরিকভাবে যোগাযোগ করা বা তাদের ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া এটি কোনো ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ওয়েস্টজেট এখনও সরাসরি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য দেয়নি। তবে অতীতে তারা বলেছে যে, তাদের কর্মীরা “নিরাপত্তা ও নীতিমালার” ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু হুয়াং পরিবার মনে করে এই ঘটনাটি ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

বিষয়টি এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। হুয়াং পরিবার ইতোমধ্যে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন বলে জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আনলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ এড়াতে এয়ারলাইনগুলো আরো দায়িত্বশীল হবে।

Related Articles

Back to top button