সিটি হলের পতাকা নীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, নতুন বিতর্ক টরন্টো রাজনীতিতে

দিদার হোসেন

আগামী সিটি কাউন্সিল বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডার টরন্টো নগরের প্রশাসনিক প্রতীক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। ডন ভ্যালি ইস্ট এলাকার সিটি কাউন্সিলর জন বার্নসাইড এমন একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সিটি হলের প্রাঙ্গণে বিদেশি কোনো দেশের পতাকা উত্তোলন বন্ধ করা হতে পারে।

জন বার্নসাইডের মতে, সিটি হল একটি প্রশাসনিক ও নাগরিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে জাতীয় ঐক্য এবং শহরের নিজস্ব পরিচয়ই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন সংগঠন বা গোষ্ঠীর আবেদনের ভিত্তিতে বিদেশি পতাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হচ্ছে এবং তা অনেক সময় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মতবিরোধকে উসকে দিচ্ছে।

তার ভাষায়, “সিটি হল এমন একটি স্থান হওয়া উচিত নয়, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ঘিরে বিরোধ প্রকাশ পায়।” সাম্প্রতিক সময়ে পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনা, প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব পরিস্থিতি নগরের প্রশাসনিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে তার দাবি।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো দাতব্য, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক সংগঠনের অনুরোধে বিদেশি দেশের পতাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে ব্যক্তিগত বা কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যেতে কোনো বাধা থাকবে না এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন বার্নসাইড।

তবে প্রস্তাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন : আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও ঐতিহাসিক চুক্তি সংশ্লিষ্ট পতাকা, লিঙ্গ পরিচয়ের বৈচিত্র্যকে প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীক (যেমন প্রাইড পতাকা), কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের প্রতীকী পতাকা, ক্রীড়া সংগঠনের পতাকা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার শহরগুলোর পতাকা। এছাড়া কানাডার জাতীয় পতাকা, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক পতাকা এবং টরন্টো শহরের নিজস্ব পতাকা আগের মতোই উত্তোলন করা যাবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ শোক বা স্মরণ উপলক্ষে পতাকা অর্ধনমিত রাখার প্রচলিত নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

আগামী সিটি কাউন্সিল বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমর্থন ও বিরোধ দুই ধরনের মতামত সামনে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে, আবার অন্যরা বলছেন, এতে বহুসাংস্কৃতিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ইতোমধ্যেই এটি টরন্টোর নগর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে এবং ভবিষ্যতে শহরের প্রতীকী নীতিমালায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Related Articles

Back to top button