হাম নির্মূলের মর্যাদা হারাল কানাডা

আনাস মোহাম্মদ

সঙ্গে পুরো আমেরিকা অঞ্চলও হারালো তাদের বহুল প্রতীক্ষিত হাম নির্মূলের স্ট্যাটাস।

১৯৯৮ সাল থেকে টিকাদানের বিস্তৃত সাফল্যের কারণে কানাডা যেই হাম নির্মূলের মর্যাদা ধরে রেখেছিল, অবশেষে এক বছরের বেশি সময় ধরে অব্যাহত সংক্রমণের কারণে সেই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে হারাতে হলো দেশটিকে। এর সঙ্গে সঙ্গে পুরো আমেরিকা অঞ্চলও হারালো তাদের বহুল প্রতীক্ষিত হাম নির্মূলের স্ট্যাটাস।

এই মর্যাদা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও)। নতুন সিদ্ধান্তে সংস্থাটি স্পষ্ট জানায় কানাডা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই ধরনের হাম সংক্রমণ ধরে রাখায় এখন আর নিজেদের হামমুক্ত ঘোষণা করার যোগ্য নয়।

পিএএইচওর পরিচালক ডা. জারবাস বারবোসা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের অঞ্চলের একটি দেশও যদি হাম নির্মূলের মর্যাদা হারায়, তবে তা পুরো আমেরিকা অঞ্চলের ওপরই প্রভাব ফেলে। ফলে পুরো আমেরিকাই এখন হাম নির্মূলের মর্যাদা হারিয়েছে।” তবে তিনি জানান, আমেরিকার ২৪টি দেশ এখনও হামমুক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।

গত বছর ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলা আবারও হামমুক্ত ঘোষিত হয়। ভেনেজুয়েলা শক্তিশালী ও ধারাবাহিক নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

স্পেশাল প্রোগ্রাম ফর কম্প্রিহেনসিভ ইমিউনাইজেশনের নির্বাহী ব্যবস্থাপক ড্যানিয়েল সালাস জানান “ব্রাজিল টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের টিকার আওতায় আনে। ভেনেজুয়েলাও নজরদারি জোরদার করে দ্রুত রোগ নিয়ন্ত্রণ করে।” তার মতে, কানাডারও উচিত সেই একই কৌশল গ্রহণ করা বিশেষত যেসব কমিউনিটিতে হাম প্রথম ছড়ায়, সেই ‘টিকাবঞ্চিত’ জনগোষ্ঠীকে তালিকাভুক্ত করে টিকার আওতায় আনা।

২০২৫ সালের হিসাব বলছে, উত্তর–দক্ষিণ আমেরিকার মোট ১০টি দেশে প্রায় ১২,৬০০ জন হাম আক্রান্ত হয়েছেন। এদের প্রায় ৯৫ শতাংশই কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। পিএএইচও বলছে যদি টিকাদানে ফাঁক পড়ে, বা অভিবাসী–যাতায়াতের অতিরিক্ত চাপ থাকে, তবে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে – বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে টিকাবিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু অঞ্চলে টিকা গ্রহণের হার ৯৫%–এর নিচে নেমে গেছে, যা হাম নির্মূলের জন্য প্রয়োজনীয় হার। সংক্রমণ শনাক্তকরণে ধীর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দুইয়ের কারণেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। পিএএইচওর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কানাডাকে এখন দ্রুত টিকাবহির্ভূত জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে ঘরে–ঘরে টিকা পৌঁছে দিতে হবে, নচেৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কানাডার এই মর্যাদা হারানো পুরো বিশ্বকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে টিকা–বিরোধী মনোভাব বাড়লে এবং নজরদারি দুর্বল হলে বহু বছর ধরে নির্মূল হওয়া রোগও ফিরে আসতে পারে। পিএএইচওর মতে, আমেরিকা অঞ্চলকে আবারও হামমুক্ত করতে হলে

আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানো, টিকা কাভারেজ বৃদ্ধি, এবং অভিবাসী–প্রবেশপথে কঠোর স্বাস্থ্য নজরদারি চালু করা জরুরি।

Related Articles

Back to top button