২০২৫ সালে অন্টারিওর সরকারি খাতে সর্বোচ্চ বেতনধারী কর্মী কারা

আলী আহমেদ

অন্টারিওর সরকারি খাতের উচ্চবেতনভোগী কর্মীদের নিয়ে প্রকাশিত বহুল আলোচিত ‘সানশাইন লিস্ট’-এ এ বছর নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রদেশটি।

অন্টারিওর সরকারি খাতের উচ্চবেতনভোগী কর্মীদের নিয়ে প্রকাশিত বহুল আলোচিত ‘সানশাইন লিস্ট’-এ এ বছর নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রদেশটি। ২০২৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৪ লাখেরও বেশি কর্মী, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। সরকারি খাতে যেসব কর্মী বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন, তাদের নাম প্রকাশের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এবারও তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন অন্টারিও পাওয়ার জেনারেশনের প্রেসিডেন্ট কেন হার্টউইক। ২০২৫ সালে তার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭ হাজার ৪০৮ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের সিইও নিকোল বুচার, যার আয় ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ২১৮ ডলার। তৃতীয় স্থানে আছেন ওপিজির প্রধান নিউক্লিয়ার কর্মকর্তা স্টিভ গ্রেগরিজ, যার আয় ১০ লাখ ৯২ হাজার ডলারেরও বেশি।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো শীর্ষ ৫ জনের সবাই এবং শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই ওপিজির কর্মী। এটি প্রমাণ করে যে অন্টারিওতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখনো সবচেয়ে উচ্চবেতন প্রদানকারী খাতগুলোর একটি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে তালিকায়। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড ২০২৫ সালে আয় করেছেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৭ ডলার। অন্যদিকে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ পেয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৪৯ ডলার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে টরন্টো পুলিশের প্রধান মাইরন ডেমকিউ ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৬ ডলার আয় করে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন।

টিটিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মানদীপ লালি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি, অর্থাৎ ৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বছরের শেষ নাগাদ তার আয় দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ডলার। এটি প্রমাণ করে যে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক পদে বেতন কাঠামো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এবারের তালিকায় টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৩ জন সদস্য, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১১৪। এটি আইন-শৃঙ্খলা খাতে বেতন বৃদ্ধির প্রবণতা ও নিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান দখল করেছেন। ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ও সিইও কেভিন স্মিথ আয় করেছেন প্রায় ৯ লাখ ৩৯ হাজার ডলার। হাসপাতাল ফর সিক চিলড্রেনের প্রধান রোনাল্ড কোন পেয়েছেন ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। একইভাবে হ্যামিল্টন হেলথ সায়েন্সেসের সিইও ট্র্যাসি ম্যাকার্থি এবং সানিব্রুক হেলথ সায়েন্সেসের অ্যান্ডি স্মিথের আয়ও কয়েক লাখ ডলারের ঘরে।

শিক্ষা খাতে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর প্রেসিডেন্ট মেলাইন উডিন আয় করেছেন প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং টিএমইউয়ের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ লাকেমি পেয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৭১ হাজার ডলার। স্থানীয় সরকারেও উচ্চ বেতনের প্রবণতা স্পষ্ট। ভনের মেয়র স্টিভেন ডেল ডুকা, ব্র্যাম্পটনের প্যাট্রিক ব্রাউন এবং মিসিসোগার মেয়র ক্যারোলিন পারিশ সবার নামই তালিকায় রয়েছে।

সানশাইন লিস্টের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে মাত্র ৪,৫০২ জন সরকারি কর্মী এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আজ সেই সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ছাড়িয়েছে অর্থাৎ প্রায় ৪০০ গুণ বৃদ্ধি। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে তালিকার আকার বেড়েছিল ২৫ শতাংশ, কিন্তু ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশে।

এই বছরের সানশাইন লিস্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আধিপত্য: ওপিজির কর্মকর্তাদের শীর্ষে অবস্থান প্রমাণ করে এই খাতে বেতন কাঠামো সবচেয়ে শক্তিশালী। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উচ্চ ব্যয়: বড় হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেতন দ্রুত বাড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি: আইন-শৃঙ্খলা খাতে কর্মীর সংখ্যা ও বেতন দুটোই বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি: সরকারি খাতে উচ্চ আয়ের কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতি ও সরকারি ব্যয়ের কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

অন্টারিওর সানশাইন লিস্ট শুধু উচ্চবেতনের একটি তালিকা নয় এটি প্রদেশটির অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সরকারি ব্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

Related Articles

Back to top button