টরন্টো সিটি কাউন্সিলে এপ্রুভ হলো বাবল জোন

জামির হোসেন

‘বাবল জোন’ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের আশেপাশে এমন এক নিরাপদ পরিসর তৈরি করা যেখানে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয়, হুমকি বা বিরক্তিকর পরিস্থিতি ছাড়াই আসা-যাওয়া ও কাজ করতে পারবেন।

টরন্টো সিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে নতুন ‘বাবল জোন’ নীতি, যা শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিক এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল স্থানের আশেপাশে নিরাপদ পরিবেশ সুরক্ষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৫ জন কাউন্সিল সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন, বিপক্ষে ভোট দেন ১১ জন। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত নীতিটি বাস্তবায়নের পথে চূড়ান্ত রূপ নিল।

‘বাবল জোন’ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের আশেপাশে এমন এক নিরাপদ পরিসর তৈরি করা যেখানে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয়, হুমকি বা বিরক্তিকর পরিস্থিতি ছাড়াই আসা-যাওয়া ও কাজ করতে পারবেন। নতুন আইনে নির্ধারিত হয়েছে শহরের নির্দিষ্ট হাসপাতাল, নার্সিং ক্লিনিক এবং প্রজনন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অন্তত ১৫০ মিটার এলাকাজুড়ে কোনো ধরনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না।

আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা কিংবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। শহরের আইনি দপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই বছরে টরন্টোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সামনে ৪০০টির বেশি প্রতিবাদ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি ভয়-ভীতির শিকার হয়েছেন।

এই নীতি নিয়ে টরন্টোর নাগরিকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশ বাবল জোন নীতিকে সমর্থন করেছেন, ২৪ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন এবং ১৪ শতাংশ নিরপেক্ষ মতামত দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর্মী সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই নীতি কার্যকর হলে রোগীরা নির্ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং চিকিৎসক ও কর্মীরাও মানসিকভাবে নিরাপদ থাকবেন। টরন্টোর নার্স ইউনিয়নের এক মুখপাত্র বলেন, “রোগীরা যখন ভয়মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে আসতে পারবেন, তখনই প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।”

তবে সমালোচকরা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের আইন ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও দমন করা হতে পারে। এক বিরোধী কাউন্সিল সদস্য মন্তব্য করেন, “আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার গুরুত্ব অস্বীকার করি না, তবে জনসাধারণের প্রতিবাদের অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে সংকুচিত করা ঠিক হবে না।”

সবকিছু মিলিয়ে, ‘বাবল জোন’ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে টরন্টো নতুন এক পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ সুরক্ষিত করতে। এটি কার্যকর হলে একদিকে রোগীরা নিরাপদে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, অন্যদিকে কর্মীরাও কর্মক্ষেত্রে স্বস্তি অনুভব করবেন। যদিও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম নিরাপদ পরিবেশ এই বিতর্ক সামনে থাকছেই, তবে কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নীতিটি বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে।

টরন্টোর ইতিহাসে এটি হবে প্রথমবার, যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে প্রতিবাদ-নিষিদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করা হবে। ফলে শহরে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও প্রদান দুই প্রক্রিয়াই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চলেছে।

Related Articles

Back to top button