
কানাডা ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ হুসেন কিয়েভ সফরের সময় ঘোষণা করেছেন, দেশটি নতুন করে ৫৭ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদান করবে। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনা চলছে।
নতুন তহবিলের মধ্যে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন কানাডার জন্য। সংস্থাটি ইউক্রেনীয় শিশুদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কোর ইউকের মাধ্যমে ৩৫ লাখ ডলার সরবরাহ করা হবে, যা যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত জনগণের জরুরি চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহৃত হবে। অবশেষে, জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ডলার দেওয়া হবে, যা পানি, আশ্রয় ও মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে কাজে লাগবে।
মন্ত্রী আহমেদ হুসেনের সফরে শিশুদের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জুলাই মাসে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভের প্রধান শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং আক্রান্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন তহবিল বিশেষভাবে শিশু সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজে লাগানো হবে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছরে ইউক্রেনের জন্য কানাডার মানবিক সহায়তার মোট পরিমাণ দাঁড়ালো ২ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর আগে, গত জুনে কানাডা একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছিল: ইউক্রেনীয় তরুণদের জন্য পাঁচ বছরের একটি প্রকল্পে ইউনিসেফকে এক কোটি ডলার দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে বিশেষভাবে রাশিয়া থেকে ফেরত আসা শিশুদের পুনর্বাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত গত বছর ইউক্রেনীয় শিশুদের বেআইনিভাবে প্রত্যাবাসনের ঘটনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মন্ত্রী আহমেদ হুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, “কানাডা ইউক্রেনীয় পরিবারগুলোর পুনর্মিলনে কাজ করবে এবং মানবিক চাহিদা পূরণে পাশে থাকবে। পাশাপাশি আমরা দেশটির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জনগণকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে কানাডার প্রতিশ্রুতি অবিচল থাকবে এবং এই সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত রাখা হবে।
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কানাডার এই মানবিক উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক সমর্থনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও শিশুরা। নতুন তহবিল মূলত তাদের জীবন রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন শুধু যুদ্ধকালীন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক পুনর্বাসন ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রেও দৃঢ়ভাবে বজায় থাকবে।



