কানাডাজুড়ে ইহুদি সংগঠন ও হাসপাতালে বোমা হামলার হুমকি, আতঙ্কে বিভিন্ন শহর

মাহবুবুল আলম

কানাডা জুড়ে শনিবার ভোর থেকে একযোগে একশর বেশি ইহুদি সংগঠন, সিনাগগ ও হাসপাতালকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ হুমকির ঘটনা ঘটে

কানাডা জুড়ে শনিবার ভোর থেকে একযোগে একশর বেশি ইহুদি সংগঠন, সিনাগগ ও হাসপাতালকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ হুমকির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবিলম্বে সতর্কতা জারি করে হুমকিপূর্ণ এলাকাগুলো খালি করা শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় ও ফেডারেল পুলিশ একযোগে কাজ করছে।

স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে এক ধরনের ইমেইল দেশের বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো হয়। হুমকিপ্রাপ্ত ইমেইলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। বিনাই বার্থ কানাডার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক রিচার্ড রবার্টসন জানান, এটি একটি সুপরিকল্পিত গণ ইমেইল ছিল, যার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ইহুদি সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করা এবং হয়রানি করা।

এ ধরনের হুমকি টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, অটোয়া সহ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিভিন্ন সিনাগগ, কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতালের কাছে পৌঁছেছে। টরন্টো পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, নর্থ ইয়র্ক অঞ্চলের কয়েকটি ভবন থেকে আগাম সতর্কতা হিসেবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ কোন ভবনগুলোকে হুমকির মুখোমুখি হয়েছে তা প্রকাশ করেনি।

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করছে। ফেডারেল ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম হুমকির উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং যে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ তৎক্ষণাৎ জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দিনে একাধিক শহরে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের হুমকি পাঠানো একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এটি শুধু সাইবার আক্রমণ নয়, বরং ঘৃণাজনিত উদ্দেশ্যও বহন করছে। উদ্দেশ্য হলো সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অরক্ষিত মনে করানো।

কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশ ইহুদি সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের হুমকির পুনরাবৃত্তি ইঙ্গিত দেয় যে, কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে ঘৃণা ও বিদ্বেষ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

ইহুদি কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা আতঙ্কিত হলেও পুলিশকে সহযোগিতা করছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার ঘৃণাজনিত অপরাধ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তারা জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই সাইবার বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করেছে। ইমেইলগুলোর উৎস খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় থাকলে এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক হুমকি সহজেই প্রতিহত করা সম্ভব।

এনআরবি টিভির এই প্রতিবেদকের কাছে একাধিক বিশিষ্টজন মন্তব্য করেন যে, কানাডার নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির রক্ষার জন্য সতর্কতা, প্রতিরোধ এবং সর্বোচ্চ সমন্বয় অপরিহার্য।

Related Articles

Back to top button