কানাডা ও অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ

দিদার হোসেন

ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এই মামলায় বিচারকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বিষয়ে দেওয়া আগের এক রুলিং বহাল রেখেছে। এই রুলিংয়ে বলা হয়েছিল, জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের (International Emergency Economic Powers Act–IEEPA) অধীনে কানাডা ও অন্যান্য দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক অবৈধ। তবে আদালত জানিয়েছে, আপাতত এই শুল্ক কার্যকরই থাকবে কমপক্ষে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এই মামলায় বিচারকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যায়। ৭–৪ ভোটে আদালত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক বিশেষায়িত আদালত ইউ.এস. কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের পূর্ববর্তী রায়কে সমর্থন করেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, কানাডা, মেক্সিকো, চীনসহ ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ট্রাম্প যে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছে।

আদালত বলেছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার ক্ষমতা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ আইইইপিএ আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি মার্কিন সংবিধানেরও লঙ্ঘন।

যদিও আদালত স্পষ্ট করেছে যে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক আইনসঙ্গত নয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কারণ, আদালত চায় ট্রাম্প প্রশাসন যেন সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ পায়। তাই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ আদালতে গেলে শুল্ক অব্যাহত থাকবে, না গেলে তা বাতিলের পথ খুলে যেতে পারে।

রায়ের পরই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সব শুল্ক এখনো কার্যকর আছে। আজ অতিমাত্রায় দলীয় আপিল কোর্ট ভুলভাবে বলেছে যে আমাদের শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। কিন্তু তারা জানে, আমেরিকা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।”

ট্রাম্পের ভাষ্যে বোঝা যায়, তিনি রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছেন এবং শুল্ক নিয়ে তার অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

২০১৮–২০১৯ সালে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডা, চীন, মেক্সিকোসহ বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে। এই শুল্ক আমদানি পণ্যের উপর নির্ভরশীল মার্কিন শিল্প ও ভোক্তা বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করে। অনেক আইন বিশেষজ্ঞ তখনই বলেছিলেন, জাতীয় জরুরি আইনের অধীনে এই ধরনের শুল্ক বৈধ কি না, তা আদালতে টিকবে না।

সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত বলেছে, প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আওতায় যে ক্ষমতা পান, সেটা সরাসরি বাণিজ্য যুদ্ধ চালানোর সুযোগ দেয় না।

সুপ্রিম কোর্টে আপিল: ট্রাম্প প্রশাসন যদি সুপ্রিম কোর্টে যায়, তাহলে আরও কয়েক মাস এমনকি বছর শুল্ক বহাল থাকতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ না করলে: ১৪ অক্টোবরের পর শুল্ক অবৈধ হয়ে যাবে এবং বাতিল করতে হবে।

বাণিজ্যিক প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও ভোক্তা পণ্য বাজারে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। কানাডা ও মেক্সিকো ইতোমধ্যেই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

এই রুলিং শুধু একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয় এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নজির হতে পারে। বিচারকদের বিভক্তি দেখায়, বিষয়টি শুধু আইনগত নয়, গভীরভাবে রাজনৈতিকও। ট্রাম্পের শাসনামলে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার বিস্তৃতি নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছিল, এবং এই মামলাটি সেই বিতর্কের কেন্দ্রীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এখন নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির দিকনির্দেশনা এবং প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার সীমানা।

Related Articles

Back to top button