১৭ আগস্ট থেকে সাস্কাটুনে ৮৪টি ওভারডোজ

আনাস মোহাম্মদ

প্রেইরি হার্ম রিডাকশনের নির্বাহী পরিচালক কায়লা ডেমঙ্গ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি নিয়মিত পরীক্ষায় ২০ আগস্ট কারফেন্টানাইল শনাক্ত হয়েছে যা মরফিনের চেয়ে বহু গুণ শক্তিশালী এবং অতি স্বল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে।

সাস্কাটুন শহরে এ বছর ড্রাগ ওভারডোজ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি ওভারডোজ অ্যালার্ট জারি করে জানিয়েছে শুধুমাত্র ১৭ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সাস্কাটুন ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ৮৪টি সন্দেহজনক ওভারডোজ ঘটনার খবর পেয়েছে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিতে তাদের সাড়া দিতে হয়েছে। অনেক ঘটনায় রোগীদের প্রাণ রক্ষা করতে একাধিক ডোজ নালোক্সিন প্রয়োগ করতে হয়েছে, যা বিপদের তীব্রতাই ইঙ্গিত করে।

প্রেইরি হার্ম রিডাকশনের নির্বাহী পরিচালক কায়লা ডেমঙ্গ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি নিয়মিত পরীক্ষায় ২০ আগস্ট কারফেন্টানাইল শনাক্ত হয়েছে যা মরফিনের চেয়ে বহু গুণ শক্তিশালী এবং অতি স্বল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে। তিনি মনে করেন, সম্প্রদায়ে ওভারডোজ বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হতে পারে এই মারাত্মক ড্রাগটির উপস্থিতি।

ডেমঙ্গের ভাষায়, “আপনি যদি রাস্তা দিয়ে হাঁটেন এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের চোখে দুঃখ দেখতে পাবেন। সেই দুঃখ থামছে না। ড্রাগ পয়জনিং যেন নতুন এক স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গত সোমবার তাদের সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০তম ব্যক্তিকে ওভারডোজে হারাতে হয়েছে। প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করছিলেন, যা তাকে আরও ব্যথিত করেছে।

সাস্কাটুনের ডেপুটি ফায়ার চিফ রব হোগান জানান, এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে একেকটি ২৪ ঘণ্টার শিফটে তাদের টিমকে ৯ থেকে ১২টি ওভারডোজ ঘটনার রিপোর্টে সাড়া দিতে হচ্ছে।

হোগান স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা হয়তো এক ধরনের মহামারির মধ্যেই আছি। সংখ্যাগুলো দেখলেই বোঝা যায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক খারাপ।”

সাস্কাটুন পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, সম্প্রদায়ে কারফেন্টানাইলের উপস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত এবং তাদের ড্রাগ ইউনিট শহরের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। তবে তারা এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের অপরাধ জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি তাই দ্রুত সমাধানের আশা করা কঠিন।

ডেমঙ্গের মতে, শুধু পরিসংখ্যানই নয় এই সংকটের পেছনে রয়েছে বাস্তব মানুষ, বাস্তব ট্র্যাজেডি। প্রতিদিনই তাদেরকে দেখতে হচ্ছে অসহায়ত্ব, দুঃখ, ও হতাশার গল্প।

তিনি বলেন, “প্রতিটি মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়। এগুলো মানুষ যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল, যাদের আমরা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

ওভারডোজের সংখ্যা ও কারফেন্টানাইলের উপস্থিতি সাস্কাটুনের সামনে এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সবাইই পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালালেও এখনও সুড়ঙ্গের শেষে আলোর দেখা নেই।

ডেমঙ্গের কথায়, “ড্রাগ সংকটের কোনো সহজ পথ নেই। তবে প্রতিটি জীবনের মূল্য আছে, তাই লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে।”

Related Articles

Back to top button