শিক্ষা বিলের ওপর গণশুনানি এড়াচ্ছে ফোর্ড সরকার

মাসুদ করিম

শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা এরই মধ্যে পাঁচটি স্কুল বোর্ডকে নজরদারির মধ্যে রেখেছেন এবং শিক্ষা বিলটি ফাস্ট ট্র্যাক করার মধ্য দিয়ে আরও অধিক সংখ্যক বোর্ডে তদারককারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা বাড়বে

শিক্ষা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর বিতর্ক সীমিত করা এবং এ বিষয়ে গণশুনানিও এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার। সমালোচকরা বলছেন, এই বিল সরকারের হাতে স্কুল বোর্ডগুলোর ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ এনে দেবে, সেই সঙ্গে আবাসন–সম্পর্কিত অপর একটি বিল ভাড়াটিয়াদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে আইনসভার অধিবেশন শুরু হয়েছে তিন সপ্তাহ আগে। এর মধ্যেই হাউসে সরকারি দলের নেতা স্টিভ ক্লার্ক তিনটি বিল ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ করার প্রস্তাব করেছেন, যার ফলে সাধারণ আলোচনার সময় সীমিত হবে এবং নিয়মিত গণশুনানি আয়োজনের সুযোগও কমে যাবে।

এর আগের মাসে সরকার আরও তিনটি বিলের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। এর মধ্যে ছিল প্রদেশজুড়ে ব্যবহৃত স্পিড ক্যামেরা বাতিল করার বিতর্কিত বিলও। এই বিল নিয়েও পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক বা জনগণের মতামত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা ইতোমধ্যেই পাঁচটি স্কুল বোর্ডকে নজরদারির আওতায় এনেছেন। নতুন শিক্ষা বিল দ্রুত পাস হলে আরও বেশি সংখ্যক বোর্ডে তদারককারী নিয়োগের ক্ষমতা তার হাতে চলে আসবে। এছাড়া, বিলটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধিক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পথও সুগম করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্কুল বোর্ডের প্রশাসনিক স্বাধীনতা এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মন্ত্রণালয়ের প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কেন্দ্রীয়করণ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এটি।

প্রাদেশিক এনডিপির নেতা মারিট স্টাইলিস সরকারের এই তড়িঘড়ি আইন পাসের প্রক্রিয়াকে “অগণতান্ত্রিক” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার অভিযোগ, “গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের আগে জনমত শোনার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। ফোর্ড সরকার চাইছে সবকিছু জনগণের চোখের আড়ালে রেখে দ্রুত পাস করিয়ে নিতে।”

স্থানীয় শিক্ষা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তারা বলছে, স্কুল ব্যবস্থার ওপর বাড়তি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, আবাসনসংক্রান্ত একটি বিলও একইভাবে ফাস্ট ট্র্যাক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। ভাড়াটিয়াদের সংগঠনগুলো বলছে, এটি বাড়িওয়ালাদের আরও সুবিধা দেবে এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য আবাসন ব্যয় ও নিরাপত্তা দুটির ওপরই ঝুঁকি বাড়াবে।

ফোর্ড সরকারের এ ধরনের দ্রুত আইন পাসের প্রবণতা নতুন নয়। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে আসছে যে সরকার জনসম্পৃক্ততা কমিয়ে এনে নীতিনির্ধারণের স্বচ্ছতা হ্রাস করছে। যদিও সরকার দাবি করে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক দক্ষতার স্বার্থেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

অন্টারিওর জনগণ এখন তাকিয়ে আছে আইনসভায় এই বিতর্কিত বিলগুলো কীভাবে অগ্রসর হয় এবং প্রদেশের শিক্ষা ও আবাসন ব্যবস্থায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী দাঁড়ায়।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button