টেক ও অ্যাংলো আমেরিকানের একীভবন অনুমোদন

দিদার হোসেন

কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের দুই বড় নাম দেশটির টেক রিসোর্সেস লিমিটেড এবং ব্রিটেনভিত্তিক খনি জায়ান্ট অ্যাংলো আমেরিকান পিএলসি এর প্রস্তাবিত একীভবনে সবুজ সংকেত দিলেন কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি

কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের দুই বড় নাম দেশটির টেক রিসোর্সেস লিমিটেড এবং ব্রিটেনভিত্তিক খনি জায়ান্ট অ্যাংলো আমেরিকান পিএলসি এর প্রস্তাবিত একীভবনে সবুজ সংকেত দিলেন কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই একীভবন কানাডার অর্থনীতি ও খনিজ খাতের জন্য লাভজনক হবে এবং দেশের কৌশলগত স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করবে।

পৃথক বিবৃতিতে টেক রিসোর্সেস ও অ্যাংলো আমেরিকান একীভবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। চুক্তিটিকে তারা ‘সমতার একীভবন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও বাস্তবে অ্যাংলো আমেরিকানের সম্পদের পরিমাণ টেক রিসোর্সেসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, তবুও দুই সংস্থা যৌথ নেতৃত্ব ও সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নতুন কোম্পানি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

এই একীভবনের প্রস্তাব প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। দীর্ঘ আলোচনা ও নিয়ন্ত্রক যাচাই-বাছাইয়ের পর গত সপ্তাহে দুই সংস্থার শেয়ারহোল্ডাররা পরিকল্পনাটিতে সম্মতি দেন। শিল্পমন্ত্রীর সাম্প্রতিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, একীভূত নতুন কোম্পানির নাম হবে ‘অ্যাংলো টেক’, এবং এর সদরদপ্তর স্থাপিত হবে কানাডার ভ্যানকুভারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কানাডাকে বৈশ্বিক খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে বিশেষত তামা (কপার) উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে। নতুন প্রতিষ্ঠানটিকে ইতিমধ্যেই একটি ‘কপার পাওয়ারহাউজ’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

টেক রিসোর্সেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জোনাথন প্রাইস বলেন, “এই অনুমোদন আমাদের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর ফলে আমরা একটি নতুন, বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কোম্পানি গড়ে তুলতে পারব, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে।”

সরকারি ও কর্পোরেট সূত্রের মতে, বৈদ্যুতিক যান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে তামা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাংলো টেকের আত্মপ্রকাশ বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কানাডার খনিজ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button