সংবেদনশীল তথ্য ফাসে অভিযুক্ত সামরিক গোয়েন্দা এজেন্টের মুক্তি

আনাস মোহাম্মদ

বিদেশি সংস্থার কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা কমান্ডের এক সদস্যকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি সংস্থার কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা কমান্ডের এক সদস্যকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কুইবেকের গ্যাটিনোতে আদালতে শুনানি শেষে সোমবার মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার ম্যাথিউ রোবার জামিনে মুক্তি পান।

গত সপ্তাহে সামরিক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ম্যাথিউ রোবার। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ফরেন ইন্টারফিয়ারেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ। এই আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিদেশি শক্তির কাছে পাচার বা এ ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়ে থাকে।

তবে মামলাটি ঘিরে এখনো খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোবারের আইনজীবী রোরি ফাউলার। তিনি বলেন, তাঁর মক্কেল নিজেই জানেন না, ঠিক কী ধরনের কাজের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফাউলারের অভিযোগ, সামরিক পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোবারের নাম প্রকাশ করতে কোনো দ্বিধা দেখায়নি, অথচ মামলার অভিযোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে তারা অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

আইনজীবীর ভাষায়, “আমার মক্কেলের নাম প্রকাশ করা নিয়ে সামরিক পুলিশের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তারা বলছে আমাদের কাছে আপনাদের দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো রোবারের গ্রেপ্তার। রোরি ফাউলার জানান, প্রথমবার রোবারকে গ্রেপ্তার করা হয় গত ২৪ অক্টোবর। সেই সময় তাঁকে শর্তসাপেক্ষে পরদিনই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই ১০ ডিসেম্বর আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন কানাডিয়ান ফোর্সেস মিলিটারি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ ঘোষণা করে এবং রোবারকে কয়েক দিন ধরে শীতল আবহাওয়ার মধ্যে কারাগারে আটক রাখা হয় বলে অভিযোগ।

রোবারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, বিভাগীয় তদন্তের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর রোবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ বা অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। গত বছর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং সেই তদন্তের ফল হিসেবেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান ফৌজদারি মামলার সঙ্গে ওই বিভাগীয় তদন্তের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামরিক কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর এই মামলাটি ঘিরে কানাডায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশটির প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Back to top button