
ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভ ও হামাস সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে টরন্টো পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের ইচ্ছা থাকলেও আইনগত পরামর্শের কারণে তারা কার্যত হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন।
নিউজটক ১০১০ রেডিও শোতে অংশ নিয়ে মেয়র চাউ বলেন, টরন্টো পুলিশপ্রধান মাইরন ডেমকিউ তাকে জানিয়েছেন যে, পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে বসে থাকা একজন আইনজীবীর পরামর্শে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে জড়িত বহু সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হচ্ছে না। ওই আইনজীবীর মতে, এসব মামলায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
মেয়র চাউ জানান, ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভকারীদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এই প্রশ্ন তিনি সরাসরি পুলিশপ্রধানকে করেছিলেন। উত্তরে ডেমকিউ বলেন, পুলিশের আইনজীবী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আদালতে দোষ প্রমাণের মতো শক্ত ভিত্তি না থাকলে গ্রেপ্তার করে এগোনোর কোনো যুক্তি নেই। “যেখানে দোষী সাব্যস্ত করার কোনো আশা নেই, সেখানে কেন অযথা মামলা এগিয়ে নেওয়া হবে?” এই যুক্তিই তুলে ধরা হয়েছে।
তবে মেয়রের এই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে টরন্টো পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে, পুলিশপ্রধান মাইরন ডেমকিউ শিগগিরই প্রকাশ্যে এসে মেয়রের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন এবং পুলিশের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
এদিকে, টরন্টো সিটি কাউন্সিলর জেমস প্যাস্তারনাক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আরও কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামাস সমর্থকদের গ্রেপ্তারে যে শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে মূলত আইনজীবীরাই দায়ী। প্যাস্তারনাক বলেন, “আমরা এখন একেবারে তলানির দিকে নেমে যাচ্ছি। পুলিশের সঙ্গে অসংখ্য বৈঠক হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, ব্যাথার্স্টের ইয়র্ক সেন্টার নেবারহুড এবং শেপার্ড এলাকায় প্রতি রোববার নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ ও জমায়েত হচ্ছে। অথচ ওই এলাকাগুলোতে কোনো সরকারি দপ্তর, দূতাবাস কিংবা সিভিক স্কয়ার নেই। তার মতে, এসব জমায়েতের একমাত্র উদ্দেশ্য স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়কে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা।
প্যাস্তারনাক দাবি করেন, সম্প্রতি ব্যাথার্স্ট স্ট্রিট ও শেপার্ড এভিনিউ এলাকায় রোববারের এক বিক্ষোভে কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড এবং এমপি রোমান বেবার হামাস সমর্থকদের হাতে হেনস্থা ও হুমকির শিকার হন। ওই সময় ঘটনাস্থলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে টরন্টোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কতটা গ্রহণযোগ্য, আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি কোথায় সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন শহরের সাধারণ বাসিন্দা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারকেরা।



