উচ্চ কর থেকে টরন্টোবাসীকে রক্ষায় এগিয়ে আসবেন না ফোর্ড

মাহবুবুল আলম

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউয়ের প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির নীতিতে হস্তক্ষেপ না করার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউয়ের প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির নীতিতে হস্তক্ষেপ না করার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের মাধ্যমে নগরীর আর্থিক ঘাটতি মেটানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন চাউ, তা থেকে টরন্টোর বাসিন্দাদের “রক্ষা করতে” প্রাদেশিক সরকার এগিয়ে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ফোর্ড। তাঁর মতে, এটি সরাসরি ভোটারদের সিদ্ধান্তের বিষয় এবং এর ফয়সালা হবে আগামী নির্বাচনে।

মেয়র চাউ সম্প্রতি মিউনিসিপাল ল্যান্ড ট্রান্সফার ট্যাক্স বাড়ানোর আহ্বান জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ লাখ ডলারের বেশি দামের বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে জমি হস্তান্তর কর বাড়ানো হবে। মেয়র ও তাঁর সমর্থকরা এই বাড়িগুলোকে ‘ম্যানশন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সমালোচকদের মতে, টরন্টোর বর্তমান আবাসন বাজারে ৩০ লাখ ডলারে প্রকৃত অর্থে কোনো ম্যানশন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বরং এই দামে আজকাল একটি ভালো মানের পারিবারিক বাড়িই পাওয়া যায়।

এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রিমিয়ার ফোর্ড কড়া ভাষায় বলেন, “বিভিন্ন সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট গোষ্ঠী যাদের মধ্যে চে গুয়েভারার সমর্থকরাও রয়েছেন এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।” তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ইস্যু, যার বিচার হবে ব্যালট বাক্সে। ফোর্ড বলেন, “আমি এতে কোনো পদক্ষেপ নেব না। কিন্তু কে এগিয়ে আসবে? ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণই এগিয়ে আসবে।”

প্রিমিয়ার আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে জমি হস্তান্তর কর বৃদ্ধির বিপক্ষে। তাঁর মতে, নির্বাচনের বছরে কর বাড়ানো যে কোনো রাজনীতিকের জন্যই ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। টরন্টো সিটির আর্থিক সমস্যার প্রসঙ্গে ফোর্ড বলেন, শহরের ব্যয় সংকট রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সমস্যাটি রাজস্বের ঘাটতির নয়। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে সিটি হলে চলে আসা কাঠামোগত ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার সমস্যা।

ফোর্ড দাবি করেন, অতীতে যখন নগর কর্তৃপক্ষের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ ছিল, তখন তারা সে পথে না গিয়ে নজিরবিহীনভাবে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু প্রিমিয়ার ছিলাম না, একসময় মেয়রও ছিলাম। বর্তমান মেয়রের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে, যেমনটা ছিল আগের মেয়রদের সঙ্গেও।”

এখানেই বক্তব্যের একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য সামনে আসে। ফোর্ডের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মেয়র অলিভিয়া চাউ এবং তাঁর পূর্বসূরি জন টোরির সময়কালে উচ্চহারে কর বৃদ্ধি আদৌ সঠিক ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও ফোর্ড দু’জনের সঙ্গেই তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন, তবু সিটি হলের বর্তমান নেতৃত্বের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি স্পষ্টতই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার ফোর্ড প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট মেয়র প্রার্থী বা রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন দেননি। ফলে কর বৃদ্ধি ইস্যুটি আগামী দিনে টরন্টোর রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কে রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, মেয়র চাউয়ের প্রস্তাবিত কর নীতি এবং প্রিমিয়ার ফোর্ডের অনড় অবস্থান এই দুইয়ের সংঘাতই এখন টরন্টোর ভবিষ্যৎ নগরনীতি ও ২০২৬ সালের নির্বাচনের রাজনীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে।

Related Articles

Back to top button