দ্বিতীয়বারের মতো সরানো হলো জুইশ প্রেয়ার স্ক্রল

আলী আহমেদ

কানাডার টরন্টো শহরের একটি আবাসিক ভবনে এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক মেজুজা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

কানাডার টরন্টো শহরের একটি আবাসিক ভবনে এ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক মেজুজা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হতে পারে এই সন্দেহে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হেইট ক্রাইম ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে।

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে রেডিও কলের মাধ্যমে তারা জানতে পারে যে নর্থ ইয়র্ক এলাকার একটি ভবনের তিনটি কন্ডো ইউনিটের দরজা থেকে তিনটি মেজুজা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনটি ফিঞ্চ এভিনিউ ইস্ট ও বেভিউ অ্যাভিনিউ এলাকার মধ্যে অবস্থিত।

টরন্টো পুলিশের কনস্টেবল অ্যাশলি ভিসার বলেন, “আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং বিষয়টি হেইট ক্রাইম হতে পারে এই দৃষ্টিকোণ থেকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ভবনের অবস্থান ও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মেজুজা হচ্ছে পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ কাগজ বা স্ক্রল, যেখানে তোরাহ থেকে হিব্রু ভাষায় পবিত্র পংক্তি লেখা থাকে। ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা এটি সাধারণত বাড়ির দরজার চৌকাঠে স্থাপন করেন, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

এ ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ইয়র্ক সেন্টারের কাউন্সিলর জেমস প্যাস্তারনেক। তিনি ঘটনাটিকে “ন্যাক্কারজনক” আখ্যা দিয়ে বলেন, বড়দিনের দিন, অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর, বেভিউ অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত একটি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ভবনের একাধিক ইউনিটের দরজা থেকে মেজুজা ছিঁড়ে ফেলা হয়।

কাউন্সিলর প্যাস্তারনেক জানান, আক্রান্ত ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদি বাসিন্দা বসবাস করেন। এমনকি সেখানে হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিও থাকেন। ফলে এই ধরনের ঘটনা কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক।

তিনি আরও বলেন, “টরন্টো পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এ এলাকাতেই দ্বিতীয়বার এ ধরনের ঘটনা ঘটল। চলতি মাসের শুরুতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল।”

এই ধারাবাহিক ঘটনার প্রভাব নিয়ে কমিউনিটির সদস্য ও ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মকাণ্ড বলে মনে করছেন।

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি নেতারা বলছেন, ধর্মীয় প্রতীককে লক্ষ্য করে এ ধরনের আক্রমণ শুধু একটি গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো সমাজের সহনশীলতা ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত। তারা দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button