টরন্টোর হাতে রাজস্বের নতুন হাতিয়ার তুলে দিতে চান না ফোর্ড

আলী আহমেদ

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, টরন্টো সিটি ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের নতুন চুক্তির মাধ্যমে নগর কর্তৃপক্ষের হাতে অতিরিক্ত কোনো রাজস্ব বা কর আরোপের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রদেশের নেই

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, টরন্টো সিটি ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের নতুন চুক্তির মাধ্যমে নগর কর্তৃপক্ষের হাতে অতিরিক্ত কোনো রাজস্ব বা কর আরোপের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রদেশের নেই।

মঙ্গলবার কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রিমিয়ার ফোর্ড বলেন, “রাজস্ব হাতিয়ার বলতে আসলে করকেই বোঝানো হয়। মানুষ ইতিমধ্যেই যথেষ্ট কর দিচ্ছে। টরন্টোতে মৃত্যুর জন্য যেন কর নেওয়া হচ্ছে এমন পরিস্থিতি আর আমরা চাই না। আয় নিয়ে সরকারের কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়। খরচ কমাতে হবে, দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে।” ফোর্ড আরও বলেন, সরকারের উচিত ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো, নতুন করে কর আরোপ করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা নয়।

পরে প্রিমিয়ারের কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে বলা হয়, টরন্টো সিটির হাতে নতুন কোনো রাজস্ব বা কর সংগ্রহের ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার বিষয়ে অন্টারিও প্রদেশ কোনোভাবেই আগ্রহী নয়।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেট পেশ করেছে। বাজেটের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। এই বাজেটে আবাসিক সম্পত্তি কর মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউয়ের মেয়াদে সবচেয়ে কম কর বৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য এই কর বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে মূলত ২০২৩ সালে অন্টারিও প্রদেশ ও টরন্টো সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির কারণে। ওই চুক্তির আওতায় গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডন ভ্যালি পার্কওয়ের দায়িত্ব প্রদেশের হাতে তুলে দেয় সিটি কর্তৃপক্ষ, ফলে নগর প্রশাসনের ওপর বড় অঙ্কের ব্যয়ের চাপ কমে।

চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গত সপ্তাহে টরন্টো সিটির ব্যবস্থাপক পল জনসন বলেন, নগর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন রাজস্ব হাতিয়ারের দিকে নজর দিতে চায়, যেগুলো অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

একই সুরে সিটির বাজেট প্রধান শেলি ক্যারোল বলেন, “শহরের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এমন রাজস্ব ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে।” তবে প্রিমিয়ার ফোর্ডের সর্বশেষ মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্তত প্রাদেশিক সরকারের দিক থেকে টরন্টোকে নতুন কোনো কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান টরন্টো সিটি প্রশাসন ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে চলমান আর্থিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একদিকে সিটি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সমাধানের জন্য নতুন রাজস্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে প্রদেশের অবস্থান খরচ কমানো ও দক্ষতা বাড়ানোর মধ্যেই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে।

আগামী দিনে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও নগরবাসীর।

Related Articles

Back to top button