টরন্টোর ১৮ হাজার বাড়িতে সরাসরি মেইল পৌঁছানো বন্ধ হচ্ছে

মাসুদ করিম

কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা এই রূপান্তরের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে যাচ্ছে

টরন্টোবাসীর জন্য দীর্ঘদিনের পরিচিত দৃশ্য দরজার সামনে থাকা মেইলবক্সে বিল ও চিঠি এসে পৌঁছানো শিগগিরই অতীত হতে চলেছে। কানাডার রাষ্ট্রায়ত্ত ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান কানাডা পোস্ট ধীরে ধীরে বাড়ি বাড়ি মেইল ডেলিভারি বন্ধ করে কমিউনিটি মেইলবক্স ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নগর জীবনের দৈনন্দিন অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা এই রূপান্তরের প্রাথমিক কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধি এবং মেইল ব্যবহারের ধরণ পরিবর্তনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসার ঘটায় চিঠিপত্রের পরিমাণ কমেছে, তবে পার্সেল ডেলিভারি বেড়েছে যা নতুন ধরনের লজিস্টিক ব্যবস্থার প্রয়োজন তৈরি করেছে।

এই প্রকল্পটি একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রায় ৪০ লাখ ঠিকানাকে কমিউনিটি মেইলবক্স ব্যবস্থায় আনতে কানাডা পোস্টের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ঠিকানায় বাড়িতে মেইল পৌঁছে দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রাথমিকভাবে টরন্টোর ইটোবিকোক অঞ্চলে প্রায় ১৮ হাজার ঠিকানা এই পরিবর্তনের আওতায় আসবে। বিশেষ করে যেসব পোস্টাল কোড “M9V” এবং “M9W” দিয়ে শুরু, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অটোয়াতেও প্রায় ৩০ হাজার ঠিকানায় একই পরিবর্তন আনা হবে। সেখানে “K1B”, “K1G”, “K1H”, “K1J” এবং “K1K” দিয়ে শুরু হওয়া পোস্টাল কোডের বাসিন্দারা প্রথমে এই ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন।

কমিউনিটি মেইলবক্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা একটি কেন্দ্রীয় স্থানে গিয়ে নিজেদের মেইল সংগ্রহ করবেন। সাধারণত একটি পাড়ার মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় এই মেইলবক্স স্থাপন করা হয়। কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই মেইলবক্স স্থাপন করা হবে। পুরো রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে একটি এলাকায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

যদিও চিঠিপত্র কমিউনিটি মেইলবক্সে স্থানান্তর করা হবে, তবে সব ধরনের পার্সেল সেখানে রাখা সম্ভব নয়। যেসব পার্সেল আকারে বড় বা স্বাক্ষর প্রয়োজন, সেগুলো সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যথায়, ওই পার্সেল নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে সংরক্ষণ করা হবে এবং গ্রাহককে সেখান থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

কানাডা পোস্ট জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এই পরিবর্তন কার্যকর হবে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগেই অবহিত করা হবে। নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে সবাইকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই পরিবর্তন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে যেমন নতুন অভ্যাস তৈরি করবে, তেমনি বয়স্ক বা চলাফেরায় অসুবিধা আছে এমন মানুষের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাকসেবা আরও সংগঠিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করছে কানাডা পোস্ট।

টরন্টো ও অটোয়ার মতো বড় শহরে ডাক বিতরণ ব্যবস্থার এই রূপান্তর আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে প্রযুক্তি, খরচ এবং ব্যবহারিকতার মধ্যে একটি নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button