কুইবেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধের দাবি

মুসা বিশ্বাস

বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এনার্জি ড্রিংককে ঘিরে।

বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এনার্জি ড্রিংককে ঘিরে। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এসব পানীয় বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার দাবিতে একাধিক শিক্ষা ও অভিভাবক সংগঠন এখন সোচ্চার। সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনার পর এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নুভো ইনফো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সী জাকারি মিরনের আকস্মিক মৃত্যু এই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। জানা গেছে, জাকারি নিয়মিতভাবে এডিএইচডির চিকিৎসার জন্য ওষুধ গ্রহণ করছিল। সেই অবস্থায় এনার্জি ড্রিংক পান করার পর তার শরীরে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত অ্যারিথমিয়া সৃষ্টি করে এবং তার মৃত্যুর কারণ হয়।

এই ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ২১টি সংগঠন একত্র হয়ে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফেডারেশন ডেস এস্টাবলিসমেন্টস ডি’এনসেইনমেন্ট প্রাইভস (এফইইপি)। তাদের সঙ্গে রয়েছে অভিভাবক সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন যেমন সিএসএন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এফইইপি জানায়, এই দাবি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি এসেছে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ থেকে। তারা মনে করছে, শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

জাকারির বাবা ডেভিড মিরন আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একজন বাবা হিসেবে এমন ঘটনা কেউই নিজের জীবনে দেখতে চান না। আমরা যদি আজ প্রকাশ্যে কথা বলি, তাহলে আমাদের একটাই আশা জাকারির এই করুণ মৃত্যু যেন ভবিষ্যতে অন্য পরিবারকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।”

এদিকে, এই দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও। এক্সটারনাট স্যাকরে-কোউরের মহাপরিচালক জাসুন টাপারাউস্কাস বলেন, “এই দাবি কোনো আবেগপ্রসূত নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে এসেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত এবং সেই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শীতকালে মরিন-হাইটসে স্কিয়িং করার সময় জাকারির মৃত্যু ঘটে। যদিও ঘটনাটি প্রথমে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়েছিল, পরে চিকিৎসা বিশ্লেষণে উঠে আসে যে তার ব্যবহৃত ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংকের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলেই মারাত্মক হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই জাকারির পরিবার ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্তত ১৬ বছরের নিচে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।

এনার্জি ড্রিংকে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান থাকে, যা শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বিশেষ করে যদি তারা কোনো ওষুধ গ্রহণ করে থাকে। ফলে এই বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

জাকারি মিরনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোকগাথা নয়; বরং এটি সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে যেখানে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

Related Articles

Back to top button