
কানাডার বিমান পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জট কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এয়ার কানাডা। পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে চালু করা এই বিকল্প প্রক্রিয়াটি মূলত বিদ্যমান ব্যবস্থার ধীরগতির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে কানাডার বিমান যাত্রীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছে কানাডিয়ান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি (সিটিএ)। তবে এই সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে কখনও কখনও কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটির জনবল বাড়ানো হয়েছে, তবুও সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি।
এই প্রেক্ষাপটে এয়ার কানাডা বিকল্প সমাধান হিসেবে একটি সমান্তরাল আরবিট্রেশন (মধ্যস্থতা) প্রক্রিয়া চালু করেছে। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পে সিটিএতে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৫০০টি অভিযোগ বাছাই করা হবে। এই অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি পৃথক ট্র্যাকে নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি পরিচালনা করবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সিডিআরএল গ্রুপের একটি সহযোগী সংস্থা। তারা খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিষেবা খাতে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ। এয়ার কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর ৯০ দিনের মধ্যে একজন অ্যাডজুডিকেটর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
এয়ার কানাডার মতে, এই উদ্যোগ তাদের ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অসন্তোষ কমাতে ভূমিকা রাখবে। কারণ, বর্তমানে সিটিএতে অনিষ্পন্ন অভিযোগের সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজারে পৌঁছেছে, যা পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই ধরনের বিকল্প প্রক্রিয়া যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যান্য এয়ারলাইন সংস্থাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে সমালোচকদের একটি অংশ বলছেন, বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
এয়ার কানাডার এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দীর্ঘসূত্রতা কমানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি কানাডার বিমান পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার



