কানাডাকে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

আলী আহমেদ

সাস্কেচুয়ানের প্রিমিয়ার স্টক মো বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতাশাজনক এবং প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ থেকে কানাডার বিরত থাকা উচিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাম্প্রতিক ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন কানাডার সাস্কেচুয়ান প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মো। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিকভাবে ধাক্কা দেবে, তবে কানাডার উচিত কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া। তাঁর মতে, প্রতিশোধমূলক শুল্ক বা বাণিজ্যিক বাধা আরোপ করলে কানাডার অর্থনীতিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মো শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ হতাশাজনক হলেও আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শান্ত ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া। কানাডা-ইউএস-মেক্সিকো অ্যাগ্রিমেন্ট (CUMSA) বলবৎ রাখার প্রচেষ্টা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রিমিয়ার মো ব্যাখ্যা করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি যেসব দেশকে লক্ষ্য করে নির্বাহী আদেশে শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে ৬৮টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও রয়েছে। কিন্তু CUSMA চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর কিছু পণ্য এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ফলে, সাস্কেচুয়ান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত থাকবে।

তাঁর ভাষায়, “যদিও আমরা হতাশ যে কিছু কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তবুও CUSMA কার্যকর থাকা মানে হলো আমাদের অধিকাংশ রপ্তানি পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদার, ব্যবসায়ী এবং আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব, যাতে সীমান্তবর্তী বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।”

মো আরও বলেন, “আমাদের সরকার ইতোমধ্যেই ‘স্ট্রং সাস্কেচুয়ান, স্ট্রং কানাডা’ পরিকল্পনার অধীনে ফেডারেল সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। লক্ষ্য হলো, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ১৬০টিরও বেশি দেশ যেগুলো সাস্কেচুয়ানের পণ্য কিনে থাকে, সেই বাজারগুলোতেও রপ্তানি আরও সম্প্রসারণ করা।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে কানাডার কিছু খাত বিশেষ করে কৃষিপণ্য, ইস্পাত, ও যন্ত্রাংশ শিল্প প্রভাবিত করতে পারে। তবে, সাস্কেচুয়ানের মতো প্রদেশগুলো যদি CUSMA চুক্তি সুরক্ষিত রাখতে পারে, তাহলে বৃহৎ অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে, কানাডার ফেডারেল সরকার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অটোয়া কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করতে চায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রিমিয়ার মো’র এই সংযমী অবস্থান কানাডার অন্যান্য প্রদেশের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে কারণ বাণিজ্যিক যুদ্ধের বদলে আলোচনাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক পথ।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজিত হলেও, সাস্কেচুয়ান প্রিমিয়ার স্কট মো’র বাস্তবসম্মত ও শান্ত প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে কানাডা আপাতত প্রতিশোধ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। তাঁর মতে, “শক্তিশালী সাস্কেচুয়ানই গড়ে তুলবে শক্তিশালী কানাডা।”

Related Articles

Back to top button