গো এবং আপ এক্সপ্রেস ট্রেনে বডি ক্যামেরা চালু করছে মেট্রোলিংক্স

মাসুদ করিম

কানাডার পরিবহন সংস্থা মেট্রোলিংক্স ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বসন্ত থেকেই তাদের গো ট্রানজিট এবং আপ এক্সপ্রেস নেটওয়ার্কে বডি ক্যামেরা ও যানবাহনে ড্যাশ ক্যামেরা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে

কানাডার পরিবহন সংস্থা মেট্রোলিংক্স ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বসন্ত থেকেই তাদের গো ট্রানজিট এবং আপ এক্সপ্রেস নেটওয়ার্কে বডি ক্যামেরা ও যানবাহনে ড্যাশ ক্যামেরা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, পাশাপাশি যেকোনো ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রাহক সুরক্ষা কর্মকর্তা, রাজস্ব সুরক্ষা কর্মকর্তা এবং স্টেশন সুরক্ষা দূতদের শরীরে এই বডি ক্যামেরা থাকবে। তবে এগুলো সবসময় চালু থাকবে না। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যেমন নিরাপত্তাজনিত ঘটনা, তদন্তের প্রয়োজন, বা কোনো যাত্রী ভাড়া পরিশোধের বৈধ প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে তখনই ক্যামেরা চালু করা হবে। অন্যদিকে, ড্যাশ ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হবে সংস্থার ব্যবহৃত যানবাহনে। এগুলো শুধু গাড়ির ভেতরের ঘটনাই নয়, আশপাশের পরিস্থিতিও ধারণ করবে। ফলে কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

মেট্রোলিংক্স এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা যাবে এবং তা বিচার বা তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ক্যামেরা চালু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা যাত্রীদের তা জানিয়ে দেবেন। এ জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ক্যামেরা চালু হলে একটি লাল আলো জ্বলে উঠবে এবং একটি শ্রবণযোগ্য বিপ শব্দ শোনা যাবে, যা রেকর্ডিং শুরু হওয়ার স্পষ্ট সংকেত হিসেবে কাজ করবে।

মেট্রোলিংক্সের দাবি, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে বডি ক্যামেরার ব্যবহার কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে মৌখিক ও শারীরিক সংঘাত কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারণ, উভয় পক্ষই জানে যে তাদের আচরণ রেকর্ড হচ্ছে, ফলে দায়িত্বশীল আচরণের প্রবণতা বাড়ে।

যদিও সংস্থাটি জানিয়েছে যে বসন্ত থেকেই এই উদ্যোগ শুরু হবে, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে কবে থেকে পুরো নেটওয়ার্কে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এই উদ্যোগকে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়াবে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতে পারে, যা মোকাবিলায় সংস্থাটির নীতিমালা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button