প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে যাচ্ছে অটোয়া

দিদার হোসেন

সম্প্রতি পাস হওয়া ফেডারেল বাজেটের অন্যতম উদ্ভাবনী নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি বেসরকারি খাত বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের সহায়তা নিয়েছে কানাডার ফেডারেল সরকার।

সম্প্রতি পাস হওয়া ফেডারেল বাজেটের অন্যতম উদ্ভাবনী নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি বেসরকারি খাত বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের সহায়তা নিয়েছে কানাডার ফেডারেল সরকার। মন্ট্রিয়লে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, সরকারের উদ্ভাবনী তহবিল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অকার্যকারিতা দূর করতে তারা ই-কমার্স জায়ান্ট শপিফাইয়ের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন।

কার্নি বলেন, “আমরা শপিফাইয়ে গিয়েছি এবং বলেছি প্রক্রিয়াটি পুনরায় নকশা করতে তোমরা কি সাহায্য করতে পারো? মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা একটি কার্যকরী প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসে। আমরা তিন মাস ধরে তা পরীক্ষা করেছি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সুপারিশই গ্রহণ করেছি।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যটিই স্পষ্ট করে যে, কানাডার দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে উদ্ভাবনী নীতিগুলো দ্রুত আধুনিকায়নে সরকার এখন প্রযুক্তি কোম্পানির কার্যকরিতা ও অভিজ্ঞতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে।

১৪ নভেম্বর মন্ট্রিয়লের চেম্বার অব কমার্স অব মেট্রোপলিটান মন্ট্রিয়লে দেওয়া ভাষণে কার্নি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট বা শ্রেড ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়ে। শ্রেড কানাডার গবেষণা ও উদ্ভাবনী খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এর আবেদন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া বহুদিন ধরে সময়সাপেক্ষ, জটিল ও অপর্যাপ্ত বলে সমালোচিত।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “নতুন, উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে আনতে চাইলে ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমান প্রক্রিয়া তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এই সমস্যার সমাধানেই সরকারের শপিফাইয়ের সহযোগিতা নেওয়া। শপিফাই দীর্ঘদিন ধরে ছোট ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, ফলে এই কোম্পানির পরামর্শকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

কানাডিয়ান ফার্মগুলোর দীর্ঘদিনের উৎপাদনশীলতা সমস্যা প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশেষ করে প্রযুক্তি শিল্পের ঝিমিয়ে পড়া পরিবেশ বুঝতে বেসরকারি খাতের উদ্বেগ ও প্রস্তাবগুলোর প্রতি সরকার আরও উন্মুক্ত হয়েছে। শ্রেড ট্যাক্স ক্রেডিট সংস্কার সেই পুনঃসম্পর্ক স্থাপনের একটি “কেস স্টাডি” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ২২ হাজার আবেদনের বিপরীতে শ্রেড কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিতরণ করেছে ফেডারেল সরকার। যদিও কারা এই অনুদান পেয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি সরকার। ২০২৫ সালের বাজেটের তথ্য অনুসারে, মোট আবেদনকারীর ৬৪% ছিলেন ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা যা স্পষ্ট করে যে এই কর্মসূচির সিংহভাগ উপকারভোগী দেশটির এসএমই খাত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শপিফাইয়ের পরামর্শে প্রক্রিয়া পরিবর্তনের উদ্যোগ যদিও আধুনিকায়নের দিকে বড় পদক্ষেপ, তবু এটি প্রশ্নও তুলেছে সরকারি নীতিনির্ধারণে বেসরকারি কোম্পানির ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত? কেউ কেউ মনে করছেন, এটি সরকার-শিল্প সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করবে; অন্যদিকে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে নীতিগত সিদ্ধান্ত শিল্পের বড় খেলোয়াড়দের পক্ষে ঝুঁকে যেতে পারে।

তবে আপাতত ব্যবসায়ী মহল ও প্রযুক্তি খাত সরকারের এই সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে ইতিবাচকই দেখছে। তাদের মতে, যদি প্রক্রিয়াটি এসএমই–দের জন্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব হয়, তবে তা কানাডার গবেষণা ও উদ্ভাবনী খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

Related Articles

Back to top button