রেল বন্ধ হলে ছোট ব্যবসায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা কানাডায়

আনাস মোহাম্মদ

শ্রমমন্ত্রী স্টিফেন ম্যাককিনন জানিয়েছেন, আলোচনার সময় শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবশ্যই চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেছেন, “এটি নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়

কানাডার প্রধান দুটি রেলওয়ে নেটওয়ার্কে আংশিক বা পুরো কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেশজুড়ে সতর্ক সংকেত জারি হয়েছে। কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিজনেসেস (সিএফআইবি) জানিয়েছে, এই ধরনের স্থবিরতা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

সিএফআইবির জাতীয় বিষয়ক প্রধান জেসমিন গুয়েনেটে বলেছেন, “রেলওয়ে সেবা বন্ধ হলে স্থানীয় ছোট ব্যবসাগুলো সময়মতো পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে না। এতে বিক্রি কমে যাবে, অনেক ব্যবসায়ী চুক্তি হারাতে পারে এবং গ্রাহকের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যত দীর্ঘ হবে কর্মবিরতি, ক্ষতির পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে।”

রেলওয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসার মধ্যে মম-অ্যান্ড-পপ শপ, পোশাক বিক্রেতা, কৃষিপণ্য সরবরাহকারী এবং খুচরা ব্যবসা সবই রয়েছে। রেলসেবা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ছোট ব্যবসাই নয়, দেশের কৃষি ও জ্বালানি খাতও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কানাডিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানি (সিএন) এবং কানাডিয়ান প্যাসিফিক কানসাস সিটি রেলওয়ে লিমিটেড (সিপিকেসি) তাদের নেটওয়ার্কে আংশিক ও পর্যায়ক্রমিক বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে প্রায় ৯,৩০০ প্রকৌশলী, কন্ডাক্টর এবং ইয়ার্ড কর্মী রয়েছেন, যারা টিমস্টার কানাডা রেল কনফারেন্স (টিসিআরসি) দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা হয়। এই ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে।

উভয় কোম্পানি আগেভাগেই সেবা বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। একাধিকবার দর-কষাকষি করা হলেও এখনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার তথ্যানুযায়ী, সিএন ও সিপিকেসি প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য পরিবহন করে। গম, তেলবীজ, কাঠ, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক দ্রব্য থেকে শুরু করে ভোক্তা পণ্য প্রায় সব খাতই রেলসেবার ওপর নির্ভরশীল।

শ্রমমন্ত্রী স্টিফেন ম্যাককিনন জানিয়েছেন, আলোচনার সময় শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবশ্যই চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেছেন, “এটি নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়। তবে এর প্রভাব পড়বে পুরো কানাডার জনগণের ওপর। তাই আমাদের উচিত ফেডারেল সরকারের হস্তক্ষেপের জন্য অপেক্ষা না করা।”

অন্যদিকে, এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জানিয়েছেন, যদি কর্মীদের কাজে ফেরানোর জন্য কোনো বিশেষ বিল আনা হয়, তবে তার দল তা বিরোধিতা করবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে পুরো কানাডার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ রেলওয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ধর্মঘট বা দীর্ঘস্থায়ী কর্মবিরতি শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ জনগণকেও সরাসরি ক্ষতির মুখে ফেলবে।

Related Articles

Back to top button