ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের অবসান চেয়েছে কনজার্ভেটিভরা

মাসুদ করিম

কানাডায় ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব শপথ অনুষ্ঠানের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন অভিবাসন সংক্রান্ত কনজার্ভেটিভ সমালোচক (ক্রিটিক) মিশেল রেম্পেল-গার্নার

কানাডায় ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব শপথ অনুষ্ঠানের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন অভিবাসন সংক্রান্ত কনজার্ভেটিভ সমালোচক (ক্রিটিক) মিশেল রেম্পেল-গার্নার। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ফেডারেল সরকারের সামনে এখন সময় এসেছে অনলাইন নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের পরিবর্তে আবার স্বশরীরে শপথ গ্রহণের প্রথা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার।

রেম্পেল-গার্নার জানান, বসন্তের নির্বাচনের সময় কনজার্ভেটিভ পার্টি এই বিষয়টিকে প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল। তাঁর মতে, অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে স্বশরীরে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, বর্তমানে অভিবাসনের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ স্বশরীরে নাগরিকত্ব আয়োজন করা সহজ হবে। তাঁর ভাষায়, “স্বশরীরে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান কানাডার নাগরিক জীবনে একত্রীকরণের একটি মৌলিক ভিত্তি। কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণ নতুন নাগরিকদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কানাডিয়ান হিসেবে যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আসে, সেগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।”

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য অভিবাসনমন্ত্রী লেনা ডিয়াবের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দি কানাডিয়ান প্রেস। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণই কানাডিয়ান নাগরিক হওয়ার সর্বশেষ আইনি ধাপ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সরকার ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব শপথের ব্যবস্থা চালু করে। মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও এই প্রথা চালু রয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ বলছে, ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান চালুর ফলে আবেদন প্রক্রিয়াকরণে গতি এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় নাগরিকত্ব আবেদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগছিল। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাগরিকত্বের প্রায় ৪৬ শতাংশ আবেদন নির্ধারিত ১২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকার ঘোষণা দেয় যে নাগরিকত্বের অন্তত ৮০ শতাংশ আবেদন এক বছরের মধ্যেই প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ সশরীরে অথবা ভার্চুয়ালি নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণ করেছেন। তুলনামূলকভাবে, ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার, সে সময় ভার্চুয়াল শপথ গ্রহণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

বর্তমানে অভিবাসন বিভাগের অধীনে প্রক্রিয়াধীন নাগরিকত্ব আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার।

ভার্চুয়াল নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান ভবিষ্যতে চালু থাকবে কি না, নাকি আবার পুরোপুরি স্বশরীরে অনুষ্ঠানে ফিরে যাওয়া হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button