৭০ হাজার কর্মীকে আগাম অবসরের চিঠি পাঠাচ্ছে ফেডারেল সরকার

মাসুদ করিম

সরকারি সেবার আকার হ্রাসের লক্ষ্যে আগাম অবসর কর্মসূচির পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য-সংবলিত চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার

সরকারি সেবার আকার হ্রাসের লক্ষ্যে আগাম অবসর কর্মসূচির পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য-সংবলিত চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রায় ৬৮ হাজার সরকারি কর্মীর কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ কামাল।

সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরে ফেডারেল কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার সরকারি পদ হ্রাস করা হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেডারেল কর্মীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬৮ হাজারে পৌঁছায়। তবে গত এক বছরে ইতোমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার পদ কমানো হয়েছে।

সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও দক্ষ করার অংশ হিসেবে কর্মী কমানোর হার জোরদার করতে চায় অটোয়া। একই সঙ্গে তরুণ কর্মীদের ওপর সরাসরি চাপ না দিয়ে স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মী হ্রাসের কৌশল নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পেনশন সংক্রান্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই আগাম অবসর গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

একটি ডিজিটাল কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রেজারি বোর্ড নির্ধারিত নির্দিষ্ট মানদণ্ডের আওতায় যারা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আবেদন করবেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে। মানদণ্ড নির্ধারণের সময় অত্যাবশ্যকীয় সরকারি সেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগাম অবসর কর্মসূচিতে আবেদন করলেই যে তা গৃহীত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলোর প্রয়োজন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর ভিত্তি করেই আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট প্রস্তাবনায় জানানো হয়েছে, সরকার আগামী জানুয়ারি থেকেই এক বছরের আগাম অবসর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে মোহাম্মদ কামাল জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন অপরিহার্য।

চিঠিতে আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৫ জানুয়ারি থেকে ১২০ দিনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। অথবা আইন কার্যকর হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে এই দুই সময়ের মধ্যে যেটি পরে হবে, সেই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। যাদের আবেদন অনুমোদিত হবে, তাদের ৩০০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আগাম অবসর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে চাইছে, অন্যদিকে তেমনি স্বেচ্ছামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী সংকোচন ঘটিয়ে সম্ভাব্য সামাজিক ও শ্রমবাজারের চাপও এড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী মাসগুলোতে আইন প্রণয়ন ও আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button