শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ব্যাপারে চাহিদা অনুযায়ী তদন্ত করতে পারছে না অভিবাসন বিভাগ

মাসুদ করিম

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির আওতায় স্টাডি পারমিটধারী শিক্ষার্থীদের তদারকি ও তদন্তে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে

কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির আওতায় স্টাডি পারমিটধারী শিক্ষার্থীদের তদারকি ও তদন্তে উল্লেখযোগ্য ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে । অভিবাসন বিভাগ (ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা আইআরসিসি) সন্দেহভাজন বিপুল সংখ্যক ফাইলের যথাযথ তদন্ত করতে পারছে না, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় দেড় লাখ স্টাডি পারমিটধারী শিক্ষার্থীর ফাইল তদন্তের জন্য চিহ্নিত করা হয়। মূলত শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ থেকেই এসব ফাইল সন্দেহের তালিকায় আসে। তবে বিস্ময়করভাবে, এত বিপুল সংখ্যক ফাইলের মধ্যে মাত্র ৪ হাজারটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে ফেডারেল সরকার।

যে ৪ হাজার ফাইলের তদন্ত শুরু হয়েছে, তার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফাইল অসম্পূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা আইআরসিসির যোগাযোগের জবাব দেয়নি। জানা গেছে, তদন্ত শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুই দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগে যায়।

২০২৮ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে মাত্র ২ হাজার তদন্ত পরিচালনার মতো বাজেট তাদের রয়েছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় তদন্ত সক্ষমতা অনেক কম, যা এই বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যেসব ফাইলের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে বৈধভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে। এছাড়া ৯১৫টি ফাইলের তদন্ত বাতিল করা হয়েছে এবং ৩৭টি ফাইল এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০টি আবেদন ভুয়া নথি ও তথ্য প্রদানের কারণে বাতিল করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিভাগ আর কোনো অগ্রগতি করেনি, যা প্রতারণা শনাক্তকরণে আলাদা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।

কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে একদিকে যেমন নজরদারির ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে সীমিত সম্পদের কারণে তদন্ত কার্যক্রমও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। তবে আরেকটি দিক হলো যেসব তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তার অধিকাংশেই শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে চলেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে সন্দেহভাজন ফাইল চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়াটি কি অতিরিক্ত কঠোর বা ত্রুটিপূর্ণ? নাকি প্রকৃত অনিয়মের তুলনায় প্রশাসনিক নজরদারি ব্যবস্থাই দুর্বল?

দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আধুনিক তদারকি ব্যবস্থার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে এই খাত আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button