৩ কোটি ডলারের প্রাইভেট জেট বিক্রি করছে অন্টারিও সরকার

মাসুদ করিম

নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা মারিট স্টাইলিস এবং অন্তর্বর্তীকালীন লিবারেল নেতা জন ফ্রেজার উভয়েই এই জেটকে “ফোর্ডের গ্রেভি প্লেন” হিসেবে আখ্যা দেন

অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের করের অর্থে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে কেনা একটি ব্যক্তিগত জেট যা বিরোধীরা ‘গ্রেভি প্লেন’ নামে অভিহিত করেছে উড্ডয়নের আগেই এখন বিক্রির পথে।

রোববার ফোর্ড বলেন, “উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু আমি মানুষের কথা শুনেছি এবং একমত হয়েছি এখন সরকারি উড়োজাহাজে ব্যয় করার সময় নয়।” তিনি জানান, প্রদেশ ইতোমধ্যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ের সহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব জেটটি বিক্রি করা যায়।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রিমিয়ারের প্রদেশজুড়ে, এমনকি কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কাজের সুবিধার্থে একটি ব্যবহৃত চ্যালেঞ্জার ৬৫০ জেট কেনা হয়েছিল। সরকার দাবি করে, এই ক্রয়টি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী কারণ কুইবেক সরকার এর আগে একই মডেলের দুটি নতুন ও একটি ব্যবহৃত জেট কিনতে প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।

তবে এই যুক্তি রাজনৈতিক সমালোচনা ঠেকাতে পারেনি। কুইন’স পার্কে বিরোধীদলগুলো এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে আক্রমণ করে। তারা অভিযোগ করে, যখন বহু অন্টারিওবাসী জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন এমন বিলাসবহুল ব্যয় অগ্রহণযোগ্য। নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা মারিট স্টাইলিস এবং অন্তর্বর্তীকালীন লিবারেল নেতা জন ফ্রেজার উভয়েই এই জেটকে “ফোর্ডের গ্রেভি প্লেন” হিসেবে আখ্যা দেন। তাদের মতে, এটি জনগণের অর্থ অপচয়ের একটি প্রতীক, যা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডাগ ফোর্ড অতীতে ঠিক উল্টো অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি সরকারি উড়োজাহাজে বড় অঙ্কের ব্যয়ের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এর পরিবর্তে একটি কাস্টমাইজড ভ্যান ব্যবহার করার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, তিনিই প্রথম প্রিমিয়ার যিনি উড়োজাহাজ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি তার নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সমালোচকরা উল্লেখ করছেন।

অন্টারিও প্রদেশ একসময় নিজস্ব সরকারি উড়োজাহাজ পরিচালনা করত। তবে ২০১৫ সালে সেই বহর বিক্রি করে দেওয়া হয়, মূলত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে। বর্তমান বিতর্ক সেই পুরনো সিদ্ধান্তের সঙ্গেও তুলনা টানছে যেখানে প্রশ্ন উঠছে, কেন আবার সেই পথে হাঁটার চেষ্টা করা হলো।

এই পুরো ঘটনাটি মূলত রাজনৈতিক বার্তা ও জনমতের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। ফোর্ডের দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দেখায় যে, অর্থনৈতিক চাপের সময়ে জনসাধারণ সরকারি ব্যয়ের প্রতি কতটা সংবেদনশীল।

একদিকে সরকার প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর যুক্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে জনবিচ্ছিন্ন বিলাসিতা হিসেবে তুলে ধরছে। শেষ পর্যন্ত, জনমতের চাপে জেট বিক্রির সিদ্ধান্ত ফোর্ড সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক ক্ষতি কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘গ্রেভি প্লেন’ বিতর্কটি কেবল একটি জেট কেনা বা বিক্রির গল্প নয় এটি সরকারি ব্যয়, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button