অন্টারিও সরকারের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার দাবি সোলেইমান ফাকিরির পরিবারের

আলী আহমেদ

নয় বছর আগে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে থাকা অবস্থায় অন্টারিওর একটি কারাগারে মারা যাওয়া সোলেইমান ফাকিরির ঘটনায় আবারও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

নয় বছর আগে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে থাকা অবস্থায় অন্টারিওর একটি কারাগারে মারা যাওয়া সোলেইমান ফাকিরির ঘটনায় আবারও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার। জেলখানায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটির দেওয়া ৫৭ দফা সুপারিশ প্রকাশের প্রায় দুই বছর পর এই দাবি তুলল তারা।

সোমবার অন্টারিওর আইনসভা ভবন কুইন’স পার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সোলেইমান ফাকিরির ভাই ইউসুফ ফাকিরি বলেন, “সুপারিশ প্রকাশের দুই বছর পেরিয়ে গেল, আর সলির মৃত্যুর নয় বছর হয়ে গেল তবুও অন্টারিও সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। কেউ একবারের জন্যও আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি।” তাঁর অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনার পরেও সরকারের নীরবতা গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর অন্টারিওর লিন্ডসে শহরে অবস্থিত সেন্ট্রাল ইস্ট কারেকশনাল সেন্টারে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান সোলেইমান ফাকিরি। এক প্রতিবেশীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, সোলেইমান সিফোজ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন এবং কারাবাসের সময় একাধিকবার তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কারাগার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবুও তাঁকে কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়নি কিংবা কোনো মনোচিকিৎসকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানসিক মূল্যায়ন করানো হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারাবাসের ১১তম দিনে শাওয়ার থেকে সেলে ফেরানোর সময় সোলেইমানের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় তাঁকে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এরপর তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়, মাথায় হুড ঢেকে দেওয়া হয় এবং মুখ মেঝের সঙ্গে চেপে ধরা হয়। এই অবস্থাতেই শেষ পর্যন্ত সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কারাগারে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ, বলপ্রয়োগের নিয়ম এবং নজরদারি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ৫৭ দফা সুপারিশ দেয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, সুপারিশ প্রকাশের পর বাস্তবে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ প্রায় নেই বললেই চলে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউসুফ ফাকিরি বলেন, তাঁর পরিবার চায় অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রকাশ্যে তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। “আমরা চাই না, আর কোনো পরিবার আমাদের মতো এমন ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাক,” বলেন ইউসুফ।

ফাকিরি পরিবারের এই নতুন করে তোলা দাবি আবারও অন্টারিওর কারাগার ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও বন্দিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই অভিযোগ ও সুপারিশের পর সরকার কী পদক্ষেপ নেয়।

Related Articles

Back to top button