অবশেষে নতুন জানালা পেলেন টরন্টোর এক জ্যেষ্ঠ নাগরিক

জুমু চৌধুরী

এই নতুন জানালার মধ্য দিয়েই শেষ হলো টেইলরের নির্মম এক যন্ত্রণার অধ্যায়।

প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার পর অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন ৮৪ বছর বয়সী নাগরিক জয়েস টেইলর। বৃহস্পতিবার ডাউনটাউন টরন্টোর নিজের অ্যাপার্টমেন্টে নতুন জানালা বসানোর পর সেখানে ফিরে আসেন তিনি। আবেগ সামলাতে না পেরে তিনি বলেন, “আহ! কী বিশাল তফাৎ। আমি আলো পেয়েছি। আমি জানালা পেয়েছি।”

এই নতুন জানালার মধ্য দিয়েই শেষ হলো টেইলরের নির্মম এক যন্ত্রণার অধ্যায়। গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালাটি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু দ্রুত তা প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কার্যত কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা একটি বড় গর্তের মতো ঘরের মধ্যে বাস করতে বাধ্য হন। ডিসেম্বরের পুরো মাস এবং জানুয়ারির একটি অংশ তিনি এই অবস্থার মধ্যেই কাটান।

টেইলর অভিযোগ করেন, এই পুরো সময়ে কেউই তার কষ্টের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেনি। তিনি বলেন “তারা ভেবেছিল আমি একজন বৃদ্ধ নারী। তারা যা খুশি করতে পারে,”।

এই অবহেলার সুযোগে তার বাসায় একসময় একটি কাঠবিড়ালিও ঢুকে পড়ে। সেটি ঘরের ভেতর সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। টেইলর নিজেই প্রাণীটিকে খাঁচায় বন্দি করেন এবং পরে ভবনের কর্মীরা সেটি নিয়ে যায়। তবে এত কিছুর পরও তার জানালা তখনো মেরামত করা হয়নি।

শীতের প্রচণ্ড ঠান্ডায় জানালাবিহীন ঘরে থাকা তার স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, হিটার চালু থাকলেও বাতাসের অভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হতো এবং ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাচ্ছিল। তিনি আরও বলেন “আমি অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় পাচ্ছিলাম। ভীষণ ঠান্ডা লেগেছিল। এটা অনেকটা গর্তে থাকার মতো ছিল,”। তিনি আরও বলেন, ঘরে থাকতে তার ভালো লাগত না। বাইরে বেরোতে চাইলেও তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতের কারণে সেটিও সম্ভব হয়নি।

টেইলরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে এবং তার ছেলে একাধিকবার অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও মেয়রের কার্যালয়ে ফোন করলেও কোনো কার্যকর সাড়া পাননি। সংবাদ প্রচারের পরপরই নতুন জানালা বসানোর কাজ শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে টেইলরকে একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

নতুন জানালা স্থাপনের পর নিজের ঘরে ফিরে এসে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। “আপনাদের কীভাবে ধন্যবাদ দেবো বুঝতে পারছি না। আপনারা যা করেছেন, তার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমি জানি, এটা কেবলই কথা। কিন্তু আমি অন্তর থেকে এটা অনুভব করি। আমি সত্যিই খুব কৃতজ্ঞ,” বলেন জয়েস টেইলর।

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের পর একটি জানালাই যেন ফিরিয়ে দিয়েছে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের আলো ও নিরাপত্তা। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে প্রবীণ নাগরিকদের আবাসন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে।

Related Articles

Back to top button