এআই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে মনে করেন ৮৫% কানাডিয়ান

আনাস মোহাম্মদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কানাডার সমাজ, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে ক্রমেই গভীরভাবে প্রবেশ করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কানাডার সমাজ, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে ক্রমেই গভীরভাবে প্রবেশ করছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তারের মধ্যেই অধিকাংশ কানাডিয়ান এখন মনে করছেন—এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে এসে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লেজার পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ কানাডিয়ান চান এআই টুলগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হোক। ২২ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশ নেন ১,৫১৮ জন কানাডিয়ান নাগরিক। তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ এই নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ‘দৃঢ়ভাবে’ অবস্থান নিয়েছেন।

তবে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে একমত হলেও এর পেছনের কারণ বা প্রেরণা সবার এক নয়। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন এআই সমাজের জন্য ইতিবাচক, আর ৩৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। অপরদিকে, ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো নিশ্চিত নন এআইয়ের প্রভাব আসলে ভালো না খারাপ।

লেজারের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাকলিয়ড ম্যাসে বলেন, “এআই সম্পর্কে জনগণের মনোভাব নির্ভর করছে তারা প্রযুক্তির ওপর কতটা আস্থা রাখেন তার ওপর। সব এআই প্রযুক্তি সমান নয়, সবক্ষেত্রে একভাবে এর প্রয়োগও হয় না।”

বর্তমানে কানাডায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। শিক্ষকতা থেকে শুরু করে চিকিৎসা নির্ণয় সবখানেই এআই সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ কানাডিয়ান কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের উপস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই বলেছেন, এটি তাদের কাজকে আরও সহজ ও উৎপাদনশীল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইপসস পাবলিক অ্যাফেয়ার্স পরিচালিত আরেকটি সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন এমন ৫৬ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, এই প্রযুক্তি তাদের কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। বয়সভেদেও এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা গেছে – জেনারেশন জেড (Gen Z) প্রজন্মের ৬৯ শতাংশ বলছেন, এআই তাদের কাজের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। জেন এক্স (Gen X) প্রজন্মের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশ, আর বেবি বুমারদের মধ্যে নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে।

এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয় ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে টিডি ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন ২,৫০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক কানাডিয়ান।

প্রযুক্তির প্রতি কানাডিয়ানদের আস্থার ক্ষেত্রেও লক্ষ্যণীয় ভিন্নতা রয়েছে।

৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ঘরোয়া কাজ বা শিক্ষা সহায়তার ক্ষেত্রে তারা এআই প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখেন। তবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শে প্রযুক্তির ওপর ভরসা রাখেন মাত্র ৩৬ শতাংশ, আইনি পরামর্শে আস্থা রাখেন ৩১ শতাংশ।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো মাত্র ১৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, ভবিষ্যতে এআই শিক্ষকদের স্থান নিতে পারবে। অর্থাৎ, এখনো অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন মানবিক শিক্ষা ও নির্দেশনার জায়গায় প্রযুক্তি পুরোপুরি সফল হতে পারবে না।

সব মিলিয়ে, কানাডায় এআই নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এখন এক দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। একদিকে মানুষ এআইয়ের সুবিধা, উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা উপলব্ধি করছে; অন্যদিকে এর সামাজিক প্রভাব, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বছরগুলোতে কানাডার সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা ও জনস্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

Related Articles

Back to top button