রাশিয়ার ওপর কানাডার আরও নিষেধাজ্ঞা

দিদার হোসেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দের কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কানাডা। মলদোভায় চলতি বছরের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর অটোয়া এবার আরও ১৬ জন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা “স্পেশাল ইকোনমিক মেজারস (মলদোভা) রেগুলেশন্স” আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মলদোভার সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন। তারা মূলত রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ইলান শোরের প্রভাববলয়ে থাকা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত।

ইলান শোর মলদোভার বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছেন। ২০১৯ সালে কানাডা তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

শোরের নেতৃত্বাধীন “শোর পার্টি” দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমাপন্থী মলদোভার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রচারণা চালিয়ে আসছে। কানাডা ২০২৩ সালের জুনে ওই দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এবারের পদক্ষেপে দলের আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মলদোভার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গাগাউজিয়া (Gagauzia)-এর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। গাগাউজিয়ার প্রশাসন ঐতিহাসিকভাবেই রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ওই অঞ্চলকে মলদোভায় প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে, কানাডা মনে করছে, গাগাউজিয়ার প্রশাসনের কিছু অংশ রাশিয়ার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, যা মলদোভার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।

অটোয়া জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন রাশিয়াপন্থী মলদোভান মিডিয়া কর্মীও। এসব গণমাধ্যম রাশিয়ার পক্ষে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। কানাডা বলছে, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মলদোভার নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ১) “ব্লক ভিক্টরি/পবেদা” (Bloc Victory/Pobeda) শোর পার্টির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট। এবং ২) শোর-সমর্থিত সংসদীয় গ্রুপ, যাদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একাধিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযোগ আছে।

অটোয়ার দাবি, এই সংগঠনগুলো রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় মলদোভার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কানাডা ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। এবার সেই তালিকায় মলদোভা-সংশ্লিষ্ট নতুন ব্যক্তিদের নাম যুক্ত হলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু মলদোভার নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব ঠেকানোর প্রচেষ্টা নয়; বরং পশ্চিমা জোটের একক বার্তা রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল আর সহ্য করা হবে না।

মলদোভায় আগামী ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা রুখতে কানাডার এই নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমা দেশগুলোর এক কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button