
কানাডায় ফিটনেস ও শরীরচর্চাকে প্রায়ই ব্যক্তিগত উৎসাহ, সচেতনতা কিংবা সময়ের অভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে বহু কানাডিয়ানের জন্য সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ক্রয়ক্ষমতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাব।
ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিল অব কানাডা (এফআইসি)-এর নির্বাহী পরিচালক জ্যাক ওয়েস্টন বলেন, “মানুষ শারীরিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় না থাকার প্রধান কারণ হলো তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সামর্থ্য নেই, অথবা তারা মনে করেন যে তাদের সেই সামর্থ্য নেই।” এফআইসি কানাডার ফিটনেস খাতের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক সংস্থা, যার আওতায় রয়েছে জিম, ফিটনেস স্টুডিও ও বিভিন্ন ওয়েলনেস ফ্যাসিলিটি।
খাত-সংশ্লিষ্ট উপাত্ত অনুযায়ী, বর্তমানে কানাডায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ, নিয়মিত ফিটনেস ফ্যাসিলিটির সুবিধা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, একটি বড় অংশ এখনও এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে।
এফআইসির তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ফিটনেস অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা ফিটনেস ফ্যাসিলিটিতে যোগ দেন না, তাদের অধিকাংশই প্রধান কারণ হিসেবে খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বহুল আলোচিত ‘সময় না থাকা’ কারণটি তালিকায় রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
জ্যাক ওয়েস্টন আরও বলেন, “কানাডায় স্বল্পমূল্যের জিম ও ফিটনেস সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানুষের মনোভাব ও সরকারি নীতি এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমরা যখন গ্রোসারি স্টোর থেকে ফল ও সবজি কিনি, তখন তার ওপর কোনো কর আরোপ করা হয় না। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে আমাদের উৎসাহ দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি যদি জিমে গিয়ে সদস্যপদ নেন, সেখানে কর দিতে হয়। এটা এক ধরনের নীতিগত বৈষম্য।”
কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, যদি ফিটনেস সংক্রান্ত খরচ ১০ শতাংশ কমানো যায়, তাহলে আরও ২৫ লাখ কানাডিয়ান ফিটনেসকে নিজেদের জন্য ক্রয়সাধ্য বলে মনে করবেন। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, বেশি মানুষ নিয়মিত শরীরচর্চায় যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমবে এবং এর ফলে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসকে বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক স্বাস্থ্য প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হলে এবং নীতিগতভাবে করছাড় বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে কানাডার জনগণের শারীরিক সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এর সুফল শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



