কানাডায় হান্টাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৬

জুমু চৌধুরী

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জম রেইমার জানান, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ইউনিটকে মোট ২৬ জন ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকার আন্দিজ ধরনের হান্টাভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এমভি হোন্ডিয়াস নামের একটি ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর, আক্রান্ত যাত্রীদের পরোক্ষ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগ।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জম রেইমার জানান, দেশের বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ইউনিটকে মোট ২৬ জন ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যক্তিরা মূলত বিমানযাত্রী এবং তারা একই ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন, যেখানে হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত যাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যক্তি সরাসরি আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন না। তাদের কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে বসেননি কিংবা দীর্ঘ সময় কাছাকাছি অবস্থানও করেননি। এজন্য তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডা. রেইমার বলেন, “আমরা কানাডিয়ান জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য আন্দিজ হান্টাভাইরাসের ঝুঁকি খুবই কম। তবে ভাইরাসটির উপসর্গ মারাত্মক হতে পারে বলে আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি।”

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এসব যাত্রীকে ‘ঝুঁকিমুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করলেও কানাডা তাদের ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ শ্রেণিতে রেখেছে। কারণ, কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে চায়।

বিশ্বজুড়ে হান্টাভাইরাসের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। তবে এমভি হোন্ডিয়াস জাহাজে যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে, সেটি আন্দিজ হান্টাভাইরাস নামে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসটি সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ালেও বিরল কিছু ক্ষেত্রে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডা জানিয়েছে, বর্তমানে যাদের কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে আইসোলেশনে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট চাইলে নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ডা. রেইমার ২৬ জন ব্যক্তির অবস্থান বা তারা কোন প্রদেশের বাসিন্দা সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে প্রাদেশিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, গত দুই দিনের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাসের উপসর্গের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কানাডায় ব্যাপক সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ক্রুজ শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও সতর্কতা ও দ্রুত নজরদারি চালিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Related Articles

Back to top button