
অটোয়া শহরের এক দম্পতি কিচেন সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৮১ হাজার ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে সিভিল মামলায় অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি বিলম্ব, নিম্নমানের কাজ, পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের অভাব, সর্বোপরি দায়িত্বহীনতার কারণে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের কিচেন ও বেজমেন্ট প্লাবিত হয়ে পড়ে।
বাড়ির মালিক কেটি আল্প জানান, ২০২৩ সালে তিনি গুইসেপ্পে জোয়ে পেলোসো পরিচালিত ম্যাগনোলিয়া কনস্ট্রাকশান (ম্যাগনোলিয়া ডিজাইন এন্ড বিল্ড)–কে কিচেন সংস্কারের দায়িত্ব দেন। তাদের পুরোনো কিচেন ভেঙে নতুন করে তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪.৮০ ডলার। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সংস্কার কাজ শুরু হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে কাজ শেষ হয়েছে বলে জানায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই ‘সমাপ্তি’ যে নতুন বিপর্যয়ের সূত্রপাত, তা বুঝতে বাড়ির মালিকদের অপেক্ষা করতে হয় মাত্র ছয় সপ্তাহ।
আল্প দম্পতি বাড়িতে ফিরে দেখেন, কিচেন সিঙ্ক সাপ্লাই লাইনের প্লাম্বিং সংযোগ পুরোপুরি ত্রুটিপূর্ণ ফলে পানি ছিটকে বের হয়ে পুরো কিচেন প্লাবিত হয়ে গেছে। কেটি আল্প বলেন “পুরো কিচেনটিই পানিতে ভাসছিল। বেজমেন্টে গিয়ে দেখি তিন ইঞ্চি পানি জমে আছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।” এ ঘটনায় তাদের নতুন সাজানো কিচেন ও বেজমেন্টের কাঠামো, মেঝে, আসবাবসহ বহু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পুরো জায়গাটি আবার নতুন করে সংস্কার করতে হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে দায়ের করা সিভিল মামলায় কেটি আল্প ও তাঁর স্বামী কাভেহ আফসার-জানজানি মোট ৩৮১,৯৭৯.০২ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে – ম্যাগনোলিয়াকে দেওয়া আগের অর্থ, নতুন করে অন্য ঠিকাদারকে দিয়ে সংস্কারের খরচ, ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসপত্রের মূল্য, পুনর্গঠন চলাকালে বিকল্প বাসস্থানে থাকার ব্যয় এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ।
দম্পতির দাবি, ম্যাগনোলিয়া নির্মাণ কাজ যথাযথভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে স্পষ্ট অবহেলার কারণে তাদের এত বড় ক্ষতি হয়েছে।
যা ছিল বাড়ির সৌন্দর্য ও সুবিধা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ, তা পরিণত হয়েছে বিশাল আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পথে। আল্প বলেন “আমরা কখনো কল্পনাও করিনি যে একটি সাধারণ কিচেন সংস্কার আমাদের জীবনে এমন বিপর্যয় নামিয়ে আনবে।”
এ মামলা চলমান রয়েছে, এবং আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



