গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার কর্মীর বিরুদ্ধে আফগান নারীর যৌন হয়রানি অভিযোগ

আলী আহমেদ

সিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, বর্তমানে আলি গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার কর্মী হলেও অভিযোগের কারণে প্রশাসনিক ছুটিতে রয়েছেন।

আফগানিস্তানে কানাডার পক্ষে কাজ করা এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত কানাডার ফেডারেল সরকারি কর্মী গিলাল এডিয়েন আলির ফৌজদারি বিচার অটোয়ার আদালতে শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কানাডায় সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশের পর ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ওই নারী একাধিকবার আলির যৌন নিপীড়নের শিকার হন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগকারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের কান্দাহারে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিতে বেসামরিক টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করার সময় আলির সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। কানাডায় আসার পর প্রথমদিকে তিনি আলির বাড়িতেই ছিলেন। সেই সময় আলির পক্ষ থেকে বারবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন তিনি।

সিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, বর্তমানে আলি গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার কর্মী হলেও অভিযোগের কারণে প্রশাসনিক ছুটিতে রয়েছেন।

গত সপ্তাহে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে অভিযোগকারী নারী জানান, আলি তাকে অশ্লীল ও অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করতেন। “সে আমাকে সেক্স টয়, বেশ্যা, কুত্তি ইত্যাদি বলে ডাকত এবং আমাকে অপমান করত,” বলেন তিনি। আদালতকক্ষে উপস্থিতদের জন্য এটি ছিল এক মর্মস্পর্শী মুহূর্ত।

প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে, আলি তার পদমর্যাদা ও প্রভাবের অপব্যবহার করে এক নবাগত অভিবাসী নারীর দুর্বলতা ও নির্ভরশীলতাকে কাজে লাগিয়েছেন।

২২ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে ক্লাউড ডেসিলেটস নামের এক সাক্ষী বলেন, “আফগানিস্তানে আলি ও ওই নারীর সম্পর্ক ছিল পিতৃতুল্য। কিন্তু কানাডায় আসার পর তাদের সম্পর্কের ধরন স্পষ্টত পরিবর্তিত হয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারী নারী আফগানিস্তানে আলিকে “ড্যাড গিলাল” বলেও ডাকতেন।

অভিযোগকারী নারী আলির বিরুদ্ধে একটি সিভিল মামলাও দায়ের করেন। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। যদিও এই সিভিল মামলা এ বছরের গ্রীষ্মে আদালতের বাইরে মীমাংসা হয়েছে, ফৌজদারি বিচার এখনও চলমান। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর।

মানবাধিকার সংগঠন এবং নারী অধিকারকর্মীরা মামলাটিকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, কানাডার সরকারি সংস্থায় যৌন হয়রানির অভিযোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তারা বলছেন, যদি আদালত অভিযোগ প্রমাণিত করে, তবে এটি ফেডারেল কর্মসংস্থান নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবে।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা জানিয়েছে, অভিযোগটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলিকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

কানাডার নারী অধিকার সংগঠনগুলোও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। তাদের মতে, এমন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে দেরিতে পড়বেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।

এই মামলাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধের অভিযোগ নয়; বরং এটি কানাডার সরকারি সংস্থাগুলোর ভেতরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ মোকাবিলার কাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে। একদিকে নতুন দেশে আসা অভিবাসী নারীর ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা দুটো বিষয়ই সমাজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আদালতের রায় যাই হোক না কেন, এই বিচার প্রক্রিয়া কানাডার কর্মসংস্থান নীতি, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মস্থলে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

Related Articles

Back to top button